প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০২২ । ৪:২৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজ দায়িত্বের অবহেলা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে তিনি সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। ওইসব নির্বাচন পরিচালনা করে তিনি অসাধুপায় অবলম্বনের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয় তিনি এই উপজেলায় ৬ বছর ধরে কর্মরত আছেন।

সম্প্রতি মতলব উত্তরের রাঢ়ীকান্দি দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও সভাপতি নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে বলে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে একটি অভিযোগ দায়ের করেন এলাকাবাসী। ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৯ মে নির্বাচন চলাকালীন বর্তমান সভাপতির সন্ত্রাসী বাহিনীরা ভোট কেন্দ্রে ঢুকে পছন্দের অভিভাবক সদস্য পদের প্রার্থীর ব্যালটে জোড় করে সিল মারে। ওই নির্বাচন বৈধ করার লক্ষ্যে বর্জনকৃত ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে একজন প্রার্থীকেও পাশ করানো হয়েছে। অথচ অভিভাবক পদে নির্বাচিত শাহজাহান এলাকায় ছিলেন না এবং কেন্দ্রে তার কোন এজেন্টও ছিল না। এরকিছু দিন পরে সভাপতি পদে নির্বাচনের নামে নাটক করে দেলোয়ার সরকারকে সভাপতি ঘোষনা করেছেন একাডেমিক সুপারভাইজার।

এছাড়াও উপজেলার চরপাথালিয়া নুরুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়, নাওভাঙ্গা জয়পুর উচ্চ বিদ্যালয় ও সুগন্ধি শরীফ উল্লাহ হাইস্কুল এন্ড কলেজ ও চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন নিয়ে একাডেমিক সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রিজাইটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তবে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নিতেন সাইফুল ইসলাম। একাডেমিক সুপারভাইজার এর মূল কাজ হলো প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শন করবেন। তা না করে তিনি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছরে পরিদর্শনে যান নি, এমন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে গত ১ বছরে তিনি প্রায় স্কুল ও মাদ্রাসা সহ প্রায় ২০ টির মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। যার অধিকাংশগুলো থেকেই আসছে নানান অনিয়মের অভিযোগ। যার ফলে এর দায়ভার পড়ছে শিক্ষা অফিসের উপর। আরো জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়্যালে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু একাডেমিক সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম দ্বিতীয় শ্রেণীর হয়েও নির্বাচনের দায়িত্ব নিতেন কৌশলে। তিনি এই উপজেলায় কর্মরত আছেন ছয় বছর হয়েছে। যার ফলে তিনি যেকোনো অনিয়ম করতে দ্বিধা করেন না। গোপন সূত্রে জানা গেছে, তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত নুরুল ইসলামকে ম্যানেজ করে নির্বাচনের দায়িত্বগুলো নেন। তবে নুরুল ইসলাম তা অস্বীকার করেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ম্যানুয়্যাল অনুযায়ী যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা নিয়োগ করার কথা। কিন্তু একাডেমিক সুপারভাইজার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচনের দায়িত্ব নিচ্ছেন। কিন্তু কিভাবে তিনি দায়িত্ব পান বা নিচ্ছেন তা আমি জানি না। নির্বাচন পরিচালনার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের।

এ ব্যাপারে একাডেমিক সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি কোন নির্বাচনে অনিয়ম করিনি। কোন প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে কি না তা আমার জানা নাই। আমার জানা মতে সব নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন