প্রকাশের সময়: সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২ । ৪:৪৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের বিষকাটালিতে সংঘর্ষের পেছনে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরোধ; আটক ১৩

অনলাইন ডেস্ক

এস এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জের বিষকাটালিতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ৭-৮ টি বসতঘর দোকান ভাংচুর করা হয়েছে। তারা তিনটি খড়ের পাড়ায় অগ্নিসংযোগ করেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত আল আমিন হাওলাদারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া ইউনিয়নের বিষকাটালি গ্রামে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিষকাটালি গ্রামের তানজিল ও হাইমচর উপজেলার গন্ডামারা গ্রামের আল আমিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত সখ্যতা চলছিলো। তারা একটি বাহিনীও গঠন করে। তাতে অন্তত দুই শত যুবক রয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

আল আমিন এলাকায় আগুন বাহিনী নামে পরিচিতি লাভ করে। এলাকাবাসী জানান, তাদের ওই সম্পর্ক মাদক সেবন ও ব্যবসায় রূপ নেয়। সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ওই বিরোধের জের ধরে আল আমিন সঙ্গীয় দলবল নিয়ে সোমবার বিকালে তানজিলের ওপর হামলা করার জন্য তাদের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়। এতে, উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে তানজিলের নেতৃত্বে সঙ্গীদের পিটিয়ে আল আমিনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হালিম ভুইয়া বাড়ির বাগানে। সেখানে তারা আল আমিনকে কোপায়।

এতে, আল আমিন গুরুতর আহত হয়। তার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে আল আমিনকে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। আল আমিনের অন্য সঙ্গীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় এলাকার লোকজন ৯৯৯ এ কল দিলে ফরিদগঞ্জ থানার এস.আই. সেলিম মিয়া সঙ্গীয় দু’জন ফোর্স নিয়ে সন্ধ্যার পর তানজিলের হালিম সভুইয়া বাড়ির সামনে যান। ওই সময় আল আমিনের আত্মীয় স্বজনসহ ও অন্তত দুই শত সঙ্গী তানজিলের বাড়িতে হামলা করে। ব্যাপক সংখ্যক হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে পুলিশ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। তারা ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সংবাদ পাঠান।

এর মধ্যে আল আমিনের অনুসারীরা অন্তত ৭-৮ টি বসত ঘর, দোকান ও তিনটি ধানের খড়ের পাড়ায় অগ্নিসংযোগ করেন। ওই সময় শিশু সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ঘরের নারী-পুরুষরা দিগি¦দিক ছুটাছুটি করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। এর মধ্যে হামলাকারীরা ঘরের দরজা, জানালা, গেইট, আসবাবপত্র ভাংচুর করে। ভাংচুরের মধ্যে সেনা বাহিনীর একজন মেজরের বাবার ঘরও রয়েছে। হামলা ও ভাংচুরের সময় তারা পুলিশ সদস্য বহনকারী একটি সিএনজি অটোরিক্সা (নং চাঁদপুর-থ ১১- ২২৩১) ভাংচুর করে।

এদিকে, খবর পেয়ে দু’টি পিক আপে চড়ে ফরিদগঞ্জ থানার একদল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন, হামলার দৃশ্য ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ ব্যপারে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে তারা ভূক্তভোগীদের পরামর্শ দেন। অটোরিক্সাটি অন্য একটি অটোরিক্সার সাহায্যে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায়।

রাত আনুমানিক এক ঘটিকা নাগাদ এডিশনাল এসপি সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর থানার ওসিসহ একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল ঘেরাও করেন। তারা সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি করে বিষকাটালির কাদের (৩৭), রাকিব খন্দকার (২১), আল আমিন (২৫), সোহাগ (১৯), কবির হোসেন, আতাউর রহমান (২৭), জাহিদ হোসেন, ফুহাদ (২৪) ও আহসান হাবিব (২২)কে আটক করে ফরিদগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। মামলায় তাদের আসামী করা হয়েছে। এদিকে বিকালে আটক করা হয় আরও তিনজনকে। তারাও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে- জানিয়েছে পুলিশ। পলিশ জানিয়েছে সংঘর্ষের পেছনে ইয়াবার ব্যবসার বিরোধ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, সিএনজি চালক রাকিবকে বাদী করে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আটকৃতদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এ ব্যপারে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানিয়েছেন, এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা লিখিত অভিযোগ দিতে রাজি হননি ও কেউ যোগাযোগ করেননি। সিএনজি চালক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ব্যাপক তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন