প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২ । ৩:২৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে শিশুকে নির্যাতন করে ভাইরাল হলেন মা!

অনলাইন ডেস্ক
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে নিজ শিশু সন্তানকে নির্যাতন করে ভাইরাল হয়েছেন এক মা।
শিশু নির্যাতনের বিষয়টি শিশুর প্রবাসী পিতার দৃষ্টিগোচর হলে তার আকুতিতে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদের নির্দেশনায়, মঙ্গলবার রাত ১২ টা দিকে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মন্নান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে হাড়িয়া গ্রামের দুলাল মেম্বারদের বাড়ি থেকে নির্যাতনের শিকার অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে।
শাহারাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, শাহরাস্তি মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানার, উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের নূরুল আমিনের মেয়ে পারভীন আক্তারের (২৩) সাথে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার আশিয়াদারি গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে প্রবাসী মহিন উদ্দিনের তিন বছর আগে বিবাহ হয়। তাদের সংসারে ফাহাদ (দেড় বছর) নামের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। বিবাহের এক বছর পর থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে স্ত্রী পারভীন আক্তার বাবার বাড়ি থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং লিগ্যাল এইড কার্যালয়, চাঁদপুরের সিদ্ধান্ত মতে ভরণপোষণবাবদ প্রতিমাসে আট হাজার টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ওই চুক্তি মোতাবেক তার প্রবাসী স্বামী মহিন উদ্দিন ঠিকমতো ওই টাকা না দিতে পারায় সম্প্রতি পারভীন তাদের দেড় বছরের শিশুছেলে ফাহাদকে নির্যাতন করে তার ভিডিও ধারণ করেন এবং তা তার স্বামীকে পাঠান। শিশুর বাবা ওই ভিডিও দেখে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনোহরগঞ্জ এলাকার ব্যক্তি বিশেষ কে অনুরোধ করেন। ইতোমধ্যে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি শিশুর সজনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী লোকজনের দৃষ্টি গোচর হয়। এ প্রসঙ্গে শিশুটির মা পারভীন আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকে তার স্বামী বহু নারীতে আসক্ত। এসবের প্রতিবাদ করায় তিনি তাদের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন। স্বামীকে শিক্ষা দিতেই তিনি শিশু ছেলেকে নির্যাতন করে ভিডিওপাঠিয়েছেন।
শিশুর দাদা আবদুল করিম জানান, ‘অনেক চেষ্টা করেও তার উগ্র চলাফেরা বন্ধ করা যায়নি। পুলিশ উদ্ধার না করলে আমার নাতীকে হয়তো মেরেই ফেলতো।’
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবদুল মান্নান জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। নিকটাত্মীয় বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নির্যাতনকারী মাকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: হুমায়ন রশিদ বলেন, ভাইরাল ভিডিওয়ের প্রেক্ষিতে রাতেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে বাকি কাজ করা হবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন