মো. রাছেল : চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে বড় ভাই ও ভাতিজার হাতে ছোট ভাই সিরাজুল ইসলামকে (৫০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে প্রধানীয়া বাড়িতে এঘটনা ঘটে।
নিহত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৩৫) বকুল বলেন, আমার স্বামী ও আমি ঘরে ছিলাম। এসময় তাঁর বড় ভাই তাজুল ইসলাম (৬০), স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৫), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) ও আবির (২৪) মিলে আমাদের ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে আমার স্বামী সিরাজুল ইসলামের উপর মারধর শুরু করলে আমার স্বামী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আমার ডাক চিৎকারে বাড়ির অন্যান্য লোকজন ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আমি ও বাড়ির লোকজন আমার স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। কয়েক বছর যাবৎ আমার ভাসুরদের সাথে আমাদের ৬শতক সম্পত্তিগত বিরোধ ছিলো। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহনাজ সুলতানা বিপাশা জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিরাজুল ইসলামকে নিয়ে আসলে ইসিজি করে নিশ্চিত হই হাসপাতালে আসার পূর্বেই তিনি মারা যায়।
নিহতের ভাতিজা ওমর ফারুক জানান, আমার চাচা সিরাজুল ইসলাম একজন ওমান ফেরত প্রবাসী। তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম একজন গৃহিনী, বড় ছেলে সিয়াম মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে শান্ত ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। স্বামীকে হারিয়ে ছেলেদের নিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ছে পরিবারটি। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
থানা সূত্রে জানা যায়, সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। কচুয়া থানাধীন কড়ইয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে তার বড় ভাই তাজুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার সকালে তাজুল ইসলাম গং সিরাজের ঘরে গিয়ে তাকে মারধর করে। এঘটনায় ৩জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো- তাজুল ইসলাম, তার স্ত্রী রহিমা বেগম ও ছেলের স্ত্রী তামান্না বেগম।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, এঘটনায় ৩জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক