প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১ । ১২:৪১ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ‘মাছ কেটে’ জীবিকা নির্বাহ করে চলছে সংসার

অনলাইন ডেস্ক

এস. এম ইকবাল : মানুষের জীবন বড়ই বিচিত্র। বিচিত্র জীবনে মানুষকে বহু পেশায় জীবন চালাতে দেখেছি কিন্তু এমন একটি পেশার নাম আজকে বলতে যাচ্ছি যেটা গতানুগতিক ধারার পেশার মধ্যে পড়ে না। তবুও এই পেশায় জীবিকা নির্বাহ করে চলছে সংসার। আর সে পেশা হলো ‘মাছ কাটা’।

বেঁচে থাকার তাগিদে কতো রকমের পেশাই না বেছে নেন মানুষ। প্রতিটি বাজারের মাছ হাটে গেলে চোখে পড়ে এক ভিন্ন পেশার মানুষের। সেই মানুষগুলো মাছ কেটে দিচ্ছেন। বিনিময়ে কিছু টাকা নেন তারা। তাই দিয়েই এই ভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্তদের সংসার চলে যায় স্বানন্দে। দিনের পর দিন মাছ কেটে নেওয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের আয়ও বাড়ছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিভিন্ন বাজারে প্রায় ডজন খানেক লোক মাছ কাটার পেশায় জড়িত। সেই পেশার আয় থেকেই সংসার চলে তাদের।

পাটওয়ারী বাজারের মাছের আড়ৎদার লোকমান খান জানান, বাজারসহ প্রায় সব এলাকার মাছের বাজার থেকে মাছ কেনার পর অনেকেই ডাকাডাকি করতে থাকেন। মাছ কেটে নিয়ে যান। অল্প টাকায় তারা মাছ কেটে ধুয়ে দিচ্ছেন। বাড়িতে ঝামেলা এড়িয়ে চলার জন্য প্রায় সবাই বাজার থেকে মাছ কেটে ধুয়ে নিয়ে যান। এজন্য মাছের সাইজ অথবা কেজি অনুযায়ী টাকা নিয়ে থাকেন। সাইজে বা কেজিতে বেশি হলে বেশি আর ছোট হলে কম টাকা লাগে।

ফরিদগঞ্জ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সাহাজান সাজু বলেন, আগে মানুষ বড় মাছ কিনে ঝুঁলিয়ে নিয়ে বাড়ি যেতে পছন্দ করতেন। আর এখন বাড়িতে ঝাঁমেলা এড়িয়ে যেতে প্রায় সবাই বাজার থেকে মাছ কেটে নিয়ে যান। শুরুতে তারাই মাছ কেটে দিতেন। এখন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বাজারে বটি নিয়ে অপেক্ষা করেন মাছ কেটে দেওয়ার জন্য।

ফরিদগঞ্জ কাছিয়াড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইমাম হোসেন বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনে একক পরিবারগুলোতে দৈনন্দিন কেনাকাটা বা রান্নাবান্নার মতো জরুরি কাজও রয়েছে। সময় বাঁচাতে প্রতিনিয়ত করা যেখানে সম্ভবপর হয় না, সেখানে মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে কাটা গৃহকর্তীর জন্য কখনো কখনো বাড়তি ঝাঁমেলা মনে হয়। তাই সবাই চেষ্টা করেন মাছ কেটে নিতে।

ফরিদগঞ্জ বাজারে মাছ কাটা পেশায় জড়িত নূরুল ইসলাম বলেন, গত প্রায় ২৫ বছর ধরে মাছ কাটছি, বড় মাছ ১০ টাকা কেজি, ছোট মাছ ৩০ টাকা কেজি হিসাবে কেটে দিচ্ছি। তবে কখনো কখনো কমবেশি হয়। কেউ কেউ খুশি হয়ে বেশি টাকা দেয়, কেউবা আবার কম দিয়ে যান। খরচ বাদে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো থাকে, এতেই কোনো রকমে সংসার চলে যাচ্ছে।

পাটওয়ারী বাজারে মাছ কাটা পেশায় জড়িত মো. আলী বলেন, আমার জন্ম কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলায়। ৩ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। আগে প্রবাসে ছিলাম। প্রবাসে ভালো কর্ম না থাকায় হতাশ হয়ে দেশে ফিরে আসি। উপায় না পেয়ে কাট কাটা পেশায় কাজ শুরু করি। পরিবারে স্ত্রী ও ১ সন্তান রয়েছে। মাছ কেটে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার থেকে ১২ শত টাকা ইনকাম এবং পরিবার নিয়ে সুখেই আছেন বলে তিনি জানান।

গিরিশ চন্দ্র বলেন, সকাল ৭টায় শুরু করি রাত ১০ টায় বাসায় যাই। তাদের একজন করে সহযোগী রাখা আছে, ওরা কাস্টমার ডেকে আনে, মাছের আঁশ ছাড়ায়,পলিথিনে ভরে দেয় আর আমরা কাটাকাটি করি। প্রত্যেক বাজারের দিন প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম হয়।

পাটওয়ারী বাজার এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষিকা নাজমা আক্তার বলেন, বড় মাছ বাসায় নিয়ে কাটাকাটি কষ্টকর। ওদের কাছে দিলে বিভিন্ন সাইজে সুন্দর করে মাছ কেটে দেয়। ওদের কাটতে সময়ও কম লাগে কাজটাও বেশ পরিপাটি।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন