প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ । ৪:২২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় সরকারী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত শাহমাহমুদপুরের মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
মাসুদ হোসেন : প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। সরকারিভাবে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য জনবলের সৃষ্ট পদ রয়েছে। কিন্তু জনবল সংকটে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে সরকারি এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। প্রায় সময়ই দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা উন্নত প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা না নিয়েই ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।
সোমবার (১২ ডিসেম্বর) শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সৃজনকৃত পদ আছে কিন্তু জনবল নেই। সৃষ্ট পদের বিপরীতে নেই ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল। নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ৫টি পদ রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটিতে।
এর মধ্যে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো), পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ফার্মাসিস্ট, নৈশ্য প্রহরী ও আয়া। এই ৫টির মধ্যে পদ শূন্য উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো), ফার্মাসিস্ট, নৈশ্য প্রহরী। যদিও মোজাম্মেল হোসেন নামে একজন নৈশ্য প্রহরী এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও গত আগস্ট মাস থেকে এ পদটিও খালি রয়েছে। বর্তমানে এ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে শুধুমাত্র একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিওভি) ও একজন আয়া দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এতে উন্নত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শাহমাহমুদপুরের বাসিন্দারা।
এদিকে রবিবার (১১ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হওয়ায় শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে দূর দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য রোগী ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু কোন স্বাস্থ্যকর্মী নেই। সামনের দরজা খোলা থাকলেও ভিতরের সবকটি কক্ষেই তালাবদ্ধ। শুধুমাত্র উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের কক্ষে আছেন একজন নৈশ্য প্রহরী। ঐ কক্ষে প্রবেশ করেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সিগারেটের প্যাকেট আর ফিল্টারসহ অগোছালো একটি চিকিৎসা সেবা কক্ষ। অপরিচ্ছন্ন এ কক্ষটি দেখলেই যে কারো মনে হবে কোন চা দোকানের দৃশ্য।
এসময় সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, বর্তমানে এ স্বাস্থ্যেকেন্দ্রে নিয়মিত কোনো চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা আসেন না। এক সময় প্রচুর রোগীর আনাগোনা থাকত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে। যে একজন স্বাস্থ্যকর্মী আছেন তাও ঠিকমত পাওয়া যায় না। আমাদের মত গরীব মানুষগুলো এতদূর থেকে এসে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়। সামর্থ্য না থাকায় চাঁদপুর শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারি না।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিওভি) জাহানারা বেগম জানান, শুধু এ প্রতিষ্ঠানটি নয়, চাঁদপুরের সবকটিতেই কম বেশি জনবল সংকট। রবিবার আমি ছুটিতে ছিলাম। আয়া ছিলেন ট্রেনিং এ। এজন্যই এদিন কোন চিকিৎসাসেবা দিতে না পারায় রোগীদের ভিড় লেগে যায়। এছাড়া নৈশ্য প্রহরী মোজাম্মেলের বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায়। তাকে রামপুর ইউনিয়নে বদলী করা হলেও তিনি শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সেকমো’র কক্ষ অবসর থাকায় মানবিক দৃষ্টিতে তাকে এ কক্ষে থাকার জন্য দেয়া হয়েছে। আয়াসহ আমি না থাকায় তার রুমের এমন নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে কিংবা মাঠে থাকলে বাহিরে একটি নোটিশ টানানো দরকার ছিল। নোটিশ টানানো থাকলে আর রোগীরা ভোগান্তিতে পড়তেন না।
চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি হাইমচরের একটি ক্যাম্পিং এ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। এদিকে মেডিকেল অফিসারের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বেলায়েত হোসেন জানান, এ ইউনিয়নে নিয়োজিত মেডিকেল অফিসার ডা. আতাউল গনি বদলী হওয়ার পর এখনো কাউকে এখানে দেয়া হয়নি।
বর্তমানে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে এ পদটি শূন্য রয়েছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন