প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২ । ১২:৫৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পৌর খাল যখন ময়লার ভাগাড়!

অনলাইন ডেস্ক
রাফিউ হাসান হামজা : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার শাহরাস্তি পৌরসভার বিভিন্ন খালে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলায় খালগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ইতোমধ্যে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে নিজমেহার মডেল স্কুলের রাস্তার অপর পাড়ে খালটিতে পৌরসভার ময়লা ফেলে ইতি মধ্যে তা ভরাট করা হয়ে গিয়েছে। এমনকি আশে পাশের খালগুলোতে ইচ্ছেকৃত ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি খাল দখলে ভূমিকা রাখছে স্বয়ং পৌরসভা!
মূলত বাজারের সমস্ত ময়লা আবর্জনা ও স্থানীয়দের বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে নিয়মিত। এতে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে খালটি। ময়লার স্তূপ এমন আকার ধারণ করেছে যে, সেখানে এখন আর পানি প্রবাহ দূরের কথা যেন নালায় পরিণত হয়েছে। সপ্তাহে ২/৩ দিন আগুন জ্বালিয়ে ময়লাগুলো নিধন করা লক্ষ্যে পৌরসভার নিযুক্ত ময়লা বহন কারী লোকটি পরিবেশ দূষণ করলেও নির্বিকার পৌর প্রশাসন! এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এছাড়াও কালীবাড়ি বাজার, ঠাকুর বাজারে অবস্থিত আড়তের সমস্ত ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এ খালে। এ সমস্ত ময়লা আবর্জনার কারণেও খালটি এখন ভরাট প্রায়। দ্রুত খালটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এটি বিলীন হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, আগে এই খালটি দিয়ে বড় বড় নৌকা চলাচল করতো এখন তো ডিঙি নৌকাও চলা সম্ভব না। তাছাড়া এলাকার মানুষ ময়লা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান না পেয়ে এই জায়গাটিতে দীর্ঘদিন ময়লা ফেলার কারণে খালটি আজ মৃতপ্রায়। তারা আরও জানান, পৌরসভার সকল ময়লা, প্লাস্টিক ও আবর্জনা কালীবাড়ি ও ঠাকুরবাজারের খালেই ফেলা হচ্ছে। এতে করে যেমন খালের পানি দূষিত হচ্ছে তেমনি খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদ হোসেন বলেন, স্কুলের পাশে খালটি আজ মৃতপ্রায়। স্থানীয়রা ও পৌরসভার ময়লার গাড়ী এখানে ময়লা ফেলে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয় মাঝে মাঝে। এতে করে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মারাত্নক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে স্থানীয়রা। এমনকি স্কুল চলাকালীন আগুন লাগানোর ফলে সৃষ্ট ধোয়ায় শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারে না।
বার বার বিষয়টি পৌর মেয়রকে জানানোর পরেও তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। উপজেলার স্বনামধন্য এই বিদ্যাপীঠের আশে পাশের পরিবেশ দূষণ মুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ঠাকুরবাজার ও কালীবাড়িতে ময়লা ফেলার এরিয়ার (শাহরাস্তি পৌরসভার ৭ নং) ওয়ার্ডের কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, পৌরসভার নিজস্ব জায়গা না থাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, শাহরাস্তি পৌরসভার ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৬২ কোটি ৩৬ লাখ ১০ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিলো। যদিও বর্তমান মেয়র হাজী আব্দুল লতিফ পর পর ২ মেয়াদে পৌর মেয়র থাকার পরেও পৌরসভার নিজস্ব ময়লা ভাগাড় নির্মাণে তাকে বেগ পেতে হচ্ছে। এতো বড় বাজেট পেশ করা হলেও ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত শাহরাস্তি পৌরসভার আজও নিজস্ব ময়লার ভাগাড় নেই, তা নিয়ে সকল মহলে আলোচনা হচ্ছে।
কবে নাগাদ পৌরসভার নিজস্ব ময়লার ভাগাড় হবে, তাও জানতে চায় স্থানীয় পৌর এলাকার বাসিন্দাগন!

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন