সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : নানা গুনে গুনান্নিত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চাঁদপুরের কৃতি সন্তান সুজিত রায় নন্দী। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ২২তম সম্মেলনে জয় বাংলার মিছিলে এক সাহসী কর্মী, চাঁদপুর জেলার প্রত্যান্তঞ্চলের এক অজোঁপাড়া গাঁয়ে বেড়ে উঠা ৱাজনৈতিক নেতা সুজিত রায় নন্দীকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি ছোট থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর ৱহমানেৱ উপৱ অনুপ্ৰাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে ঘনিষ্টভাবে জড়িত হয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে ছাত্র রাজনীতির সবকটি ধাপ পাড় হয়ে আওয়ামীলীগের উচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্বদানকারী সৎ, নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সুজিত রায় নন্দী।
তিনি ১৯৬৮ সালের ৩রা জানুয়ারী চাঁদপুর সদরের ৯ নং বালিয়া ইউনিয়নে পিতা কাসিশ্বর রায় নন্দী ও মাতা হিরণ প্রভা রায় নন্দীর কোল আলোকিত করে ভুমিষ্ঠ হন ধরনীতে। সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহন করেন এ রাজনীতিবিদ।
প্রচার বিমুখ এ মানুষটি ফরাক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস,এস,সি এবং চাঁদপুর সরকারী কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। বর্ণ্যাঢ্য তার রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পদ অলঙ্কিত করেছেন।
১৯৮৪ সালে নিজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে ঢাকার জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ ঢাঃবিঃ ছাত্রলীগ প্রচার সম্পাদক, ৮৯/৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাঃবিঃ জগন্নাথ হলের এজিসি ও পরে জিসি নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক, ১৯৯৪ ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক নির্বাচিত হন।
তার এই বর্ণাঢ্য রাজনীতিকে ঘিরে রয়েছে নানা ত্যাগ-তিতিক্ষা। ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে ছাত্রলীগের জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
২০০৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ উপ কমিটির সহ-সম্পাদক, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে পুনরায় আবার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ২০ তম সম্মেলনে সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতৃক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ২২ জনের মাঝে সুজিত রায় নন্দীকে ত্রান ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেন।
সুজিত রায় নন্দী শুধু রাজনীতিক ব্যক্তিত্বই নন, তিনি একাধারে সমাজসেবক, দানবীরও বটে। তার এলাকা তথা চাঁদপুরবাসী দাদা বলে একনামে সম্মোদন করেন এই গুনী ব্যক্তিত্বকে। নিজের এলাকা ফরাক্কাবাদে প্রতিষ্ঠা করেন ফরাক্কাবাদ ডিগ্রী কলেজ। চাঁদপুর সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। কুমুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, বালিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক, ফরাক্কাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসার উপদেষ্টা। ঢাঃবিঃ ও জগন্নাথ হলের এ্যালমোনাই এ্যাসোসিয়শনের সদস্য।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য, চাঁদপুর জেলা সমিতির আজীবন সদস্য। এছাড়াও নানা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, সাংস্কৃতি সব কিছুতে তার অবদান অনস্বীকার্য।
চাঁদপুর জেলা ও উপজেলার পাশ্ববর্তি এলাকাগুলোতে রয়েছে তার পরিবারের ব্যাপক পরিচিতি ও স্বচ্ছ ভাবমুর্তি।
সুজিত রায় নন্দী এলাকার মানবসেবার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। অত্যন্ত নম্রভদ্র বিনয়ী ও সেবাকর্মী বান্ধব এই আওয়ামীলীগ নেতা। একজন প্রকৃত নেতা হিসেবে দেশ ও দলের প্রতিটি ক্রান্তিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই অকুতোভয় সৈনিক রাজপথে থেকেই প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের দুর্দিনের কঠিন সময়ে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
“নানা গুনে গুনান্নিত এই মহান ব্যক্তি চিরকাল চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের বন্ধু হয়ে বেঁচে থাকবেন কোটি মানুষের হৃদয়ে”, নিরঅহংকারী এই ব্যক্তি চাঁদপুরসহ সারাদেশে খুবই জনপ্রিয়।

অনলাইন ডেস্ক