প্রকাশের সময়: বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১ । ১১:৩৭ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রামপুরায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক : একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ দাবি করেছেন, রামপুরায় গাড়িগুলোতে ছাত্ররা আগুন দেয়নি। ওই মহল ছাত্রদের গায়ে কালিমা লেপন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, হাফ ভাড়া এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্ররা আন্দোলন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে বিআরটিসি বাসে হাফ ভাড়া আজ থেকে কার্যকরের নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ঢাকার বাস মালিক সমিতি হাফ ভাড়া কার্যকর করেছে।

মন্ত্রী বলেন, গত পরশু রাতে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। সেটি হচ্ছে রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় একজন ছাত্র নিহত হয়েছে। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। কিন্তু এ ঘটনা একটু বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই, এই ঘটনা থেকে কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যানুযায়ী ঘটনাটি ঘটে রাত পৌনে ১১টায়। এর ১২ মিনিট পর ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ তাদের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ করে। রাত ১১টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয়। আর সেখান থেকে সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। এখন প্রশ্ন হলো, ১২ মিনিটেই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ পেজের অ্যাডমিন সেখানে কীভাবে পৌঁছাল, সেখান থেকে লাইভ কীভাবে করল? বাঁশের কেল্লা কীভাবে ১৫ মিনিটের মধ্যে এই খবর পেল এবং সেখান থেকে খবর প্রচার করল?

ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই ১০/১২টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হলো উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গাড়িগুলোতে আগুন ছাত্ররা দেয়নি। কারণ ঘটনার ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে এত ছাত্র সেখানে পৌঁছায়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, যারা ফেসবুক পেইজে লাইভ দিয়েছে তারা কি ঘটনা সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত ছিল? ১২ মিনিটের মধ্যে যারা লাইভে গেছে এবং ১৫ মিনিটের মধ্যে লোকজন জড়ো করে বাসে আগুন দেওয়া হলো, তারা আগে থেকে প্রস্তুত নিশ্চয়ই ছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী/পুলিশ সেখানে পৌঁছাতে পারে না, অথচ তারা পৌঁছে গেল কীভাবে? এই প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনে ভর করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গত পরশু রাতের ঘটনা থেকে সেটি স্পষ্ট। ছাত্রদের গায়ে কালিমা লেপন করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। ছাত্ররা অনেক দিন ধরে আন্দোলন করছে, তারা কিন্তু কোনো জায়গায় গাড়িতে আগুন দেয়নি, এমনকি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেনি। ছোটখাটো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু বড় ভাঙচুরের ঘটনা সেভাবে ঘটেনি। অথচ সেদিন ঘটনার ১৫ মিনেটের মধ্যে ১২ থেকে ১৫টি বাসে আগুন দেওয়া হলো।

মন্ত্রী বলেন, এগুলো দুষ্কৃতকারীরা করেছে, যারা দেশে কোনোকিছুর ওপর ভর করে অতীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। আজকেও এই ছাত্রদের ওপর ভর করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টার উদ্দেশ্যে এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনা নিয়ে অবশ্যই তদন্ত হচ্ছে এবং হবে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে নিশ্চয়ই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু মামলা হয়েছে, তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। সরকার ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল বলেও জানান ড. হাছান।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিআরটিসি বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেভাবে সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে, আমি আশা করব বেসরকারি বাস মালিকরাও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন; চট্টগ্রামসহ অন্যান্য শহরের ক্ষেত্রেও তারা হাফ ভাড়া কার্যকর করবেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন