প্রকাশের সময়: সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩ । ৩:২৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের মিরপুর চর ইজাড়া নিয়ে দ্বন্ধ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা

অনলাইন ডেস্ক

এস এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জ পৌরসভাধীন মিরপুর চর ইজাড়া নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরস্পর বিরোধী দু’ গ্রুপ শক্ত অবস্থানের কারণে চরের প্রকৃত জমির মালিক ও কৃষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন। এনিয়ে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের মীরপুর গ্রামে প্রায় ১’শ ১০ একর জমি নিয়ে মিরপুর চরটি। এই চরের জমির মালিক প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক। চরটি নিচু জমি ও এক ফসলী হওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত চরের মালিকরা মৎস্য চাষীদের কাছে ইজাড়া দিয়ে আসছে। তবে ইজাড়াদারদের অবশ্যই চরের জমির মালিকানা থাকতে হয়। আবার ইজাড়াদারদের চর পরিচালনার জন্য একটি কার্যকরী কমিটি থাকতে হবে। ওই কমিটি মৌসমে এক সনা বা এক বছরের জন্য মৎস্য চাষিদের কাছে ইজাড়া দিয়ে থাকে। মেয়াদকাল শেষ হলে পুনরায় চরের জমির মালিকদের নিয়ে আরেকটি কমিটি গঠন করে চর ইজাড়া পরিচালনার জন্য।

সেভাবে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ইজাড়ার মেয়াদকাল শেষ হওয়ার পুর্বে পরিচালনা কমিটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি সভা ডেকে বিগত দিনের হিসাব-নিকাষ উপস্থাপন করেন। অত:পর জমির মালিকদের উপস্থিতিতে তাদের প্রস্তাব সমর্থনের মাধ্যমে চর ইজাড়া ও পরিচালনার জন্য একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করতে গেলে জনৈক জাকির হোসেন বেপারি নামে প্রভাবশালী এক নেতার রোষানলে পড়ে বাঁধার সম্মুখিন হয় ইজাড়া পক্রিয়া।

এব্যাপারে চরের জমির মালিক ঈমান হোসেন তালুকদার জানান, প্রভাবশালী জাকির হোসেন গত কয়েক বছর পুর্বে এক বছরের জন্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে উক্ত চরটি ইজাড়া দিয়ে ইজারাদারদের সাথে আঁতাত করে ৪ বছর যাবত চরটি দখল করে, জমির মালিকদের তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে।

পরে জমির মালিকরা বহু কষ্টে তার ছোবল থেকে চরটি উদ্ধার করে নতুন একটি কমিটি গঠন করে তাদের কাছে ইজারা দেয় এবং তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে নেয়। এবার ও চরের জমির মালিকেরা নতুন একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করে তাদের কাছে চরটি ইজারা দেয়ার প্রস্তাব করে। কিন্তু জাকির হোসেন বেপারি বুঝতে পারে এবার সে কার্যকরী কমিটিতে থাকতে পারবে না। তাই সে ফন্দি আঁটতে থাকে এবং কার্যকরী কমিটি গঠনে বাঁধা দেয়। পরে সে নিজেই ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়রের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে চরের জমির মালিকদের পৌরসভায় ডেকে আনেন মেয়র। এর সপ্তাহ পর পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় মিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জমির মালিকদেরকে নিয়ে একটি সভার আয়োজন করেন। সে সভায় পুর্বের কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে চরের জমির প্রকৃত মালিকদের তালিকা করে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

তালিকা জমা দেয়ার পর পুনরায় সরেজমিনে গিয়ে কমিটি গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা না করে কৌশলে পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী নিজেকে কমিটির সভাপতি ও ইব্রাহিম খলিলকে সম্পাদক করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি চর পরিচালনা কমিটি করে তা ঘোষণা করেন। ঘোষিত কমিটিতে বেশির ভাগ সদস্য জমির মালিকানা না থাকায় প্রকৃত মালিকরা ক্ষুব্দ হয়ে তা প্রত্যাক্ষাণ করে।

কিন্তু চরের প্রকৃত মালিকদের কথা আমলে না নিয়ে মেয়র গত ৫ মার্চ রোববার মাইকিং করে এবং পরদিন সোমবার উক্ত চর ইজাড়া দেওয়ার ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী মেয়র চর এলাকায় ইজাড়া দেওয়ার জন্য গেলে সেখানে প্রকৃত চর মালিকদের সাড়া না পেয়ে মেয়র ইজাড়া প্রক্রিয়া বন্ধ করে চলে আসেন।

চরের জমির মালিক ও পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন রুনু বলেন, চরের প্রকৃত জমির মালিকরা যাতে চর ইজারা দিয়ে তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পায় এটিই আমাদের দাবী। পাশাপাশি জমির মালিক চাড়া অন্য কেউ চর পরিচালনা কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত হতে পারবে না।

এ ব্যাপারে মেয়র সাংবাদিকদের জানান, চর ইজাড়া ও কমিটি নিয়ে গ্রুপিং ও নানা জটিলতার কারণে একটি পক্ষ আমাকে সভাপতি করে চর পরিচালনা কমিটি করে। আমি চাই চর ইজাড়া প্রক্রিয়া শেষ করে এই দায়িত্ব প্রকৃত মালিকের কাছে ছেড়ে দিবো।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন