চাঁদপুরের কচুয়ায় ব্লাস্ট রোগের কারনে আধাপাকা ধানকাটার ধুম পড়েছে। প্রায় পক্ষকাল পূর্ব থেকে উপজেলার বিভিন্ন মাঠের ইরিধান খেত নেকব্লাস্ট ও লিফব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করে।
আক্রান্ত হওয়ার ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে পুরো জমির ধানের ছড়া সাদা রঙ ধারন করে চিটা হয়ে যায়। অপর দিকে লিভব্লাস্টে সদ্য গজানো ধানের ছড়ায় কালো কালো দাগ পড়ে একই সময়ের মধ্যে চিটা হয়ে যায়। উক্ত রোগের আক্রমন থেকে ধান রক্ষায় ট্রুপার, নাটিভো, বীর, ফিলিয়া, নোব্লাস্ট ইত্যাদি ঔষধ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি দপ্তর। এসব ঔষধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে কিছু অসাধু কীটনাশক ব্যবসায়ীরা নকল কীটনাশক ঔষধ বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
কৃষকরা ঔষধ ক্রয় করতে এসে বিক্রেতাদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে নকল ঔষধ কিনে জমিতে ব্যবহার করছে। কিন্তু এসব নকল ঔষধের দ্বারা রোগের কোন প্রতিকার পাচ্ছে না কৃষকরা। এতে কাঙ্খিত ফলন না পেয়ে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। তারা এখন মন্দের ভালো হিসাবে আধাপাকা কাঁচা ধান কাটছে। তাদের মতে আধাপাকা ধান কেটে যে ফলন পাবে তাতে অন্তত তাদের কিছুটা খরচ পুশিয়ে আসবে।
উপজেলার কৃষক আশ্রাফপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিন, নাওপুরা গ্রামের নাছির মিয়া ও নূরপুর গ্রামের আবু তাহের জানান, তারা প্রতি ৬শতকে চার থেকে পাঁচ মণ ধান পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্ত আধাপাকা ধান কাটায় ফলন পাচ্ছে দুই থেকে তিন মণ মাত্র।
চলতি মৌসুমে কচুয়ায় ১২ হাজার ৯শত ৯০ হেক্টর জমিতে ইরি ধানের চাষ হয়। ফসল ও ভলো হয়। কাঙ্খিত ফলন পাওয়ার স্বপ্ন দেখে কৃষকরা। কিন্তু মৌসুমের শেষের দিকে এসে ব্লাস্ট রোগে আক্রামনে তাদের সে স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ সোফায়েল হোসেন জানান, দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করায় ও জমিতে চাহিদা মত পানি না থাকায় ব্লাস্ট রোগে ধান খেত আক্রান্ত হয়েছে। তিনি আরো জানান নকল কীটনাশক ঔষধ বিক্রেতাদের শনাক্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ রাছেল