চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পরকীয়া প্রেমের জেরে হত্যাকাণ্ডের শিকার মো. এমরান হোসেনের পরিবার মানববন্ধন করেছে।
শনিবার বিকালে হাজীগঞ্জ বাজারে চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের পাশে এ মানববন্ধন করে তারা।
এ সময় ৮ বছরে শিশু আফনান তার বাবার হত্যার বিচারের দাবিতে এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।
ও সময় বিচার ছেয়ে মানববন্ধন বক্তব্য রাখেন এমরানের ভাই আবদুল কাইউম, বোন রিনা বেগম, রেখা বেগম, আমেনা বেগম, বোন জামাই নুর হোসেন, আনাছ ভুইয়া ও খালা নুর জাহান বেগম।
এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে ঝিনাইদাহ থেকে প্রধান আসামী আশেক এলাহী বাবুকে আটক করা হয়েছে। সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রসাশনকে ধন্যবাদ জানান। এবং অন্য আসামীদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবি করেন।
নিহত এমরান হোসেনকে সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন হয়েছে।
রোববার রাতে তিনি তার ভাড়া বাসায় খুনের শিকার হন। আর এই ঘটনায় প্রেমিক সৈয়দ আশেকে এলাহী বাবুকে (৩৬) নিয়ে প্রবাসী স্বামীকে জবাই করে খুনে করে স্ত্রী ফারজানা বেগমের (৩০)।
রোববার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার সৌদিআরব প্রবাসী মো. এমরান হোসেনের বোন রিনা বেগম বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রেমিক সৈয়দ আশেকে এলাহী বাবু, হত্যাকাণ্ডের শিকার এমরান হোসেনের স্ত্রী ফারজানা বেগম, তার শাশুড়ী ও শালিকাকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দিন থেকে ফারজানা জেলহাজতে রয়েছে।
নিহত মো. এমরান হোসেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের দালাল বাড়ির মো. আবুল বাশারের ছেলে। তার স্ত্রী ফারজানা বেগম হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের জাকনি গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের মেয়ে। তারা দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আফনানকে (৮) নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। আর প্রেমিক শাহরাস্তি উপজেলার আজাগরা গ্রামের সৈয়দ বাড়ির বাসিন্দা।
জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ যুগান্তরকে জানান, ময়নাতদন্ত শেষে এমরান হোসেনের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তার দাফন সম্পর্ন হয় । মামলার আসামি ফারজানা বেগম জেল হাজতে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আশাকরি শিঘ্রই তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
উল্লেখ্য, রোববার (৮ অক্টোবর) রাতে হাজীগঞ্জ বাজারের ট্রাক রোডস্থ আমেনার বাসার ৩য় তলায় নিজ ভাড়া বাসায় খুনের শিকার হন সৌদিআরব প্রবাসী মো. এমরান হোসেন। এই ঘটনায় প্রেমিক সৈয়দ আশেকে এলাহী বাবুকে নিয়ে স্বামীকে জবাই করে খুনের অভিযোগ উঠে স্ত্রী ফারজানা বেগমের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পালিয়ে যায় পরকীয়া প্রেমিক এবং ওই দিন রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফারজানাকে আটক করে পুলিশ।
এমরান হোসেনের বোন রিনা বেগম জানান, আমার ভাবির (ফারজানা বেগম) সাথে তার বড় বোনের চাচাতো দেবর শাহরাস্তি উপজেলার আজাগরা গ্রামের সৈয়দ বাড়ির সৈয়দ আশেকে এলাহী বাবুর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এঘটনায় অনেক ঝামেলা ও দেন-দরবার হয়েছে। তারা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি