ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজান মাষ্টারের বিরোদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে না আশা এবং তথ্য সেবা কেন্দ্রে নিয়ম বহির্ভূত নিজস্ব লোক দিয়ে বিধাব ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিজিডি চাল, বিজিএফ চালসহ সকল প্রকার নাগরীক সেবায় অনিয়মের কথা তুলে ধরে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
১৭ আক্টোবর মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারস্থ চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শত শত নারী পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ওই ইউনিয়নের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত বিল্লাল মিজি, বিলকিস বেগম, রহমতের নেছা, জামাল হোসেন, আলমগীর, সিরাজ মিয়া গাজী, প্রতিবন্ধী বেবী, ফাতেমা বেগম প্রমূখ।
এসময় বক্তারা বলেন, গত ৮ অক্টোবর চেয়ারম্যান শাহজাহান মাষ্টার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সচিব ইমাম হাসানকে মারধর করে। এনিয়ে সচিব পরিষদে আসছে না। চেয়ারম্যান ও সচিবের কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় আমরা আমাদের কাঙ্খীত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। দুর দূরান্ত থেকে ইউনিয়নবাসী ও ফিরে যাচ্ছে। এবং চেয়ারম্যান তার ভাগিনা ও আত্মীয়সজন দিয়ে সেবা নিতে আসা লোকদের সাথে প্রতিনিয়ত খারপ আচরন করছে। তার লোকজন বিধবা ভাতা নিতে আসা বিধবা মহিলার কাছ থেকে ৫-১০ হাজার টাকা দাবী করছে। সরকারের নির্ধারিত জন্ম নিবন্ধনের ফ্রি থেকে কয়েকগুন বেশি নিচ্ছে। অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, জন্ম নিবন্ধনসহ সকল দরনের ভাতার কার্ড দিচ্ছে।
তারা আরো বলেন, এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার ভাগিনা এমরান হোসেন মিশু নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ পরিবারের লোকজনকে হয়রানি করছে।
এক বিধবা বলেন, আমি ২১ বছর দরে বিধবা। আমি বিধবা কার্ড করতে গেলে চেয়ারম্যানের লোকজন আমির কাছে ১০ হাজার টাকা দাবী করেন। আমি টাকা না দেওয়ায় আমাকে কার্ড করে দেয়নি।
স্থানীয় লোকজন জানান, সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের জন্য পরিষদে গেলে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে তারা জন্ম নিবন্ধন দেয় না।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১২ নং চরদুঃখিয়া (পঃ) ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের অনিয়মের বাঁধা এবং রাজস্ব খাতের বকেয়া টাকা রাষ্ট্রীয় খাতে জমা দেয়ার কথা বলায় সচিব ইমাম হাসানকে পরিষদে প্রথমে গালমন্দ করে পরে চড় থাপ্পড় দেন চেয়াম্যান। এর পর থেকে তাদের দ্বন্দ্বে ইউনিয়নবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এস এম ইকবাল