ফরিদগঞ্জে দুই শিশুর মারামারিকে কেন্দ্র করে অসহায় পরিবারের সদস্যের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার চর দুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম আলোনিয়া গ্রামে শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার পরিবারের সদস্যরা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনারপর থেকে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অসহায় পরিবারটি।
লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঘটনারদিন ওই এলাকার শিশু ওসমান (১০) ও প্রতিবেশি আরেক শিশু আজম (১০) এ দুই শিশু মিলে মারামারি করে। শিশু আজম তার সমবয়সী শিশু ওসমানকে ঝাপটে ধরে রাখে, ছুটতে না পেরে আজমকে কামড় দেয়। পরবর্তিতে আজমের মা এসে ওসমানকে পেটাতে থাকে। এ ঘটনা ওসমানের মা দেখে তারা অসহায় হওয়ায় আল্লার কাছে বিচার দিয়ে ঘরে চলে যায়।
বিকেলে হঠাৎ শিশু আজমের পক্ষে তার মামা সাইফুল ইসলাম (২৮) একদল সন্ত্রাসী নিয়ে এসে শিশু ওসমানের পুরো পরিবারের ওপর হামলা চালায়।
এসময় শিশু ওসমান, তার বাবা সুমন মিজি, মা পারুল বেগম, স্কুল পড়ুয়া বোন সুমাইয়াকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। সুমন মিজির ডান কানে কামড় দিয়ে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম, পরবর্তিতে কানের ওই অংশ আর খুজে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তরা অসহায় সুমন মিজিকে পিটিয়ে রাস্তার ওপর পেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা এসে জখমীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হামলার শিকার ও থানায় লিখিত অভিযোগের বাদী পারুল আক্তার বলেন, সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা আমার বসতঘরে বেয়াইনীভাবে প্রবেশ করে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করেছে। আমার ঘরে থাকা গরু বিক্রির নগদ টাকাও লুট করে নিয়ে যায় তারা। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি, আমরা অসহায় হওয়াতে কি বিচার পাবো না?
এ ঘটনায় স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামদের মাদকাসক্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিচারের দাবী জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা খোকন মিয়া, মোস্তফা, শামীম, কাঞ্চনসহ আরো অনেকেই অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে মাদকাসক্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে এহামলার ঘটনা ও অন্যান্য অপরাধের বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমার ভাগ্নে আজমকে ওসমান কামড় দিয়েছে। খবর পেয়ে আমি প্রতিবাদ করতে আসলে সুমন মিজি আমাকে জড়িয়ে ধরে কামড় দিয়েছে। আমি ছাড়া পেতে তার কানে কামড় দিলে তা ছিড়ে যায়। আমি আর কিছু করি নাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ বলেন, ঘটনা যা ঘটেছে, তা দৃশ্যমান। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি, তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এস এম ইকবাল