প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ । ১০:৪৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের বাগাদীতে ডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেই নিচ্ছেন বেতন ভাতা

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেই নিচ্ছেন বেতন ভাতা। প্রধান শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজশে ৪র্থ শ্রেনীর এ কর্মচারী নিজ কর্মস্থলে না গিয়েও মাসিক ভেতন ভাতা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অসুস্থ্যতার কারন দেখিয়ে তিনি নিজ ছেলেকে দিয়ে মাসের পর মাস কাজ করিয়ে নিয়ে বেআইনিভাবে বেতন আদায় করছেন। বিষয়টি বাগাদী এলাকার সর্বমহলে এখন ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দ।

জানা যায়, বাগাদী ইউনিয়নের ডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়া জোসনা বেগম শারীরিক অসুস্থ্যতার কারনে বহুদিন যাবৎ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে যাচ্ছেন। তার পরিবর্তে নিজ ছেলে কালুকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নিজ ক্ষমতাবলে এ ভাবে সরকারি নিয়মনীতি না মেনে একজনের কাজ অন্যজনকে দিয়ে করিয়ে ভেতন ভাতার কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও হাজিরা খাতায় রয়েছে জোসনা বেগমের প্রতিদিনের স্বাক্ষর। নেই কোন প্রকার মেডিকেল ছুটি। এমনটাই অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানায়, বহুদিন যাবৎ জোসনা বেগম বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার ছেলে কালু কাজ করছে, কিভাবে এটা করছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভাল বলতে পারবে।

সরেজমিনে সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিদ্যালয়ে গিয়ে আয়া জোসনা বেগমকে পাওয়া যায়নি। এমনকি যে ছেলে কালুকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে তাকেও পাওয়া যায়নি। এসময় কথা হয় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে, তারা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক ভাল বলতে পারবেন বলে জানান। তবে জোসনা বেগম দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে, সেটা আকার ইঙ্গিতে স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. হান্নানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে, সে সাংবাদকর্মীদের সাথে অসৎ আচরন করে তাদের পরিচয় পত্র না দেখালে কোন প্রকার তথ্য দিবেনা বলে প্রথমে জানান, এবং সংবাদকর্মীদের তিনি গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ক্ষমতা দেখাতে থাকেন। সে ঐ এলাকার স্থানীয় হওয়ায় অনৈতিক প্রভাব খাটায় বলে তার সহকর্মীরা জানান। পরে এক পর্যায়ে সংবাদকর্মীদের মধ্যে একজন তার পরিচয় পত্র দেখালে তাকে শুধু তার কক্ষে থাকার অনুমতি দেন এবং বলেন জোসনা বেগম অসুস্থ্য থাকার কারনে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে পরামর্শ করে তার ছেলেকে দিয়ে কাজ করাচ্ছি। এটা তেমন কোন সমস্যা নয়। জোসনা বেগম প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত এ পর্যন্ত বেতন ভাতা তুলে নিচ্ছেন। তার অনুপস্থিতর বিষয়টি সত্য বলে জানান।

চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামাল হোসেন জানান, কোন ব্যক্তি অনুপস্থিত থেকে ভেতন ভাতা নেওয়ার কোন প্রকার সুযোগ নেই। আয়া জোসনা বেগম অনুপস্থিত এ বিষয়টি প্রধান শিক্ষক কখনো আমাকে জানাননি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরে সংবাদকর্মীরা চলে আসার সময় প্রধান শিক্ষক হান্নানুর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী প্রধান শিক্ষক মোরশেদ আলম দ্রুত ছুটে এসে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি বিভিন্ন ভাবে সংবাদকর্মীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

উল্লেখ্য, পশ্চিম সকদী ডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগসহ অনিয়মের বিষয়ে ইতিমধ্যে কয়েকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও প্রধান শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এসব অনিয়মের লাগাম টানেনি।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন