গত সোমবার ঘূর্ণিঝড় রিমালে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরান বাজার এলাকা। শহর প্রতিরক্ষা এলাকার প্রায় ৮ টি স্থানে অন্তত ১৬৫ মিটার মেঘনা নদীতে দেবে গেছে।
দিনভর টানা বৃষ্টিপাত ও মেঘনার প্রবল উত্তাল ঢেউয়ে গত সোমবার বিকেলে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন ধরা শুরু করে। যার তাণ্ডব ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকে। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় কয়েক ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে তীরে। এতে ঘুমহীন রাত কেটেছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।
ভারি বর্ষণ ও উত্তাল জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীপাড়ের ঘর-বাড়ি, মন্দির, রাস্তা-ঘাট। স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে গৃহ-পালিত প্রাণীসহ মানুষের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র।
স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েক বছরেও এমন দূর্যোগে পরিস্থিতি তারা দেখেননি। ভাঙনের সময় রাতে বাড়িতে বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিলো। এসময় অনেক লোকজন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
তারা বলেন, বর্ষা আসলে প্রতি বছর নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। এরইমধ্যে অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। ভাঙন দেখা দিলে কর্মকর্তারা আসেন নদীতে বালুর বস্তা ফেলতে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই। যে পরিস্থিতি রাতে আমাদের বাড়িঘর টিকে কী না আমরা খুব শঙ্কিত।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, রেমালের প্রভাবে মেঘনার পানি মারাত্নকভাবে ফুলে উঠেছিলো। প্রায় ৫-৭ ফুট দৈর্ঘ্যের ঢেউ শহর প্রতিরক্ষা বাঁধে তাণ্ডব চালিয়েছে যার কারণে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী আমরা গতকাল রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানগুলোতে আমাদের মজুদ রাখা জিও ব্যাগ ফেলেছি। খুব শিঘ্রই মেরামত কাজ শেষ করতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই ৮২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ পূনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের শুরু হয়েছে যেটি ২০২৭ সালের জুন মাসের মেয়াদে শেষ করা হবে। এই প্রকল্পে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার সর্বনাশা ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে।
জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতিমধ্যেই ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছেন। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি