প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪ । ১০:৩০ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে কন্যা শিশু হওয়ার আশঙ্কায় সন্তান বিক্রির পর পুলিশি অভিযানে উদ্ধার

মোঃ মাসুদ রানা
শাহরাস্তিতে এক রাজমিস্ত্রি দম্পতি তাদের চার দিনের নবজাতক পুত্র  সন্তানকে বিক্রির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটি উদ্ধার করে। ওই কান্ড চাউর হতেই সমগ্র এলাকা জুড়ে স্থানীয়দের মাঝে  চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শাহরাস্তি মডেল থানা তাদের কনফারেন্স সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিং এর আয়োজন করে। ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রেজওয়ান সাঈদ জিকু এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত  ৬ জুন বৃহস্পতিবার  শাহরাস্তি উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউপির দক্ষিণ দেবকরা ব্যাপারী বাড়ির বর্তমান নিবাস  খেড়িহর গ্রামের হুনার বাড়ির  আবু নাছিরের স্ত্রী  জান্নাতুল ফেরদাউস  পৌর শহরের মেহের কালিবাড়ি একটি প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে গত  সোমবার ১০ জুন  জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ একটি নবজাতক শিশু কে বা কারা নিয়ে গেছে মর্মে  একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই অভিযোগের ভিত্তিতে  শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার  ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন স্পর্শকাতর বিষয়টি চাঁদপুর পুলিশ সুপার  মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম, অভিহিত পূর্বক  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
সোমবার রাত দুইটায় ওই নবজাতককে উদ্বারে শাহরাস্তি মডেল থানার  এসআই (নিঃ) জনি কান্তি দে, অফিসার সঙ্গীও  ফোর্সসের একটি চৌকস দল চাঁদপুর সদরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। ওইসময় চাঁদপুর বিষ্ণুদী ব্যাংক কলোনী এলাকা থেকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার অধিবাসী মামুনুর রশিদ (৪৫) ও হালিমা সিদ্দিকা  (৩৮) দম্পতির ঘর থেকে চারদিন বয়সী ওই নবজাতকে উদ্ধার করা হয়।
তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নিঃসন্তান  দম্পতি জানায়, শাহরাস্তি উপজেলার মেহের উত্তর ইউপির খনেশ্বর নতুন বাড়ির অধিবাসী   শফিকুর রহমান এবং  রেহানা আক্তার তাদের পিতা-মাতা। মূলত শিশুটি পেতে তারাই মধ্যস্থতা করে।  এ বিষয়ে তারা আরো জানায়, সন্তান বিক্রি করা রাজমিস্ত্রি দম্পতি পূর্বেও তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আগত সন্তানটিও কন্যা শিশু হতে পারে  আশঙ্কায় তারা এই শিশুটিকে পৃথিবীর আলো দেখার পূর্বেই  বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় । ওই হিসেবে শিশুটি  ভূমিষ্ট হওয়ার পর শফিকুল ইসলাম ও রেহানা আক্তার  দম্পতি তাদের মেয়ে চাঁদপুরে বসবাসকারী হালিমার জন্য নবজাতক শিশুটি ক্রয় করেন বলে স্বীকার করেন।
পুলিশ সোমবার গভীর রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করে  শাহরাস্তি মডেল থানা হেফাজতে এনে নবজাতক শিশুর  পিতা-মাতাকে থানা হেফাজতে  হাজির করে। ১১জুন মঙ্গলবার দুপুরে  শাহরাস্তি মডেল থানায় গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে এ বিষয়ে পুলিশ  সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে  শিশুটিকে মায়ের বুকে ফিরিয়ে দেয়। ওই সময় পুলিশের মানবিকতায় পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান মায়ের কোল শিশুটি খুঁজে পাওয়ায় সেখানে  এক আবেগ আপ্লুত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এ প্রসঙ্গে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, স্পর্শকাতর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানবিক দিক-বিবেচনায় উদ্ধারকৃত নবজাতক শিশুকে তার  মা জান্নাতুল ফেরদাউস এর কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে মা ফেরদাউস জানান, তার স্বামী একজন রাজমিস্ত্রি শ্রমিক। পূর্বে তাদের ঘরে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।বর্তমান সন্তানটি আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে কন্যা সন্তান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বিদায়  তারা ওই নিঃসন্তান হালিমা সিদ্দিকার নিকট  শিশুটি হস্তান্তরের  সিদ্ধান্ত নেন। শিশুটির মা আরো দাবি করেন অর্থে জন্য শিশুটিকে বিক্রি করা হয়নি। শুধুমাত্র সিজার অপারেশনের খরচের বিনিময়ে তার আদরের ধন বিলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এটি তার ভুল ছিল। ওই সময় পুত্রকে কোলে নিয়ে জান্নাতুল বলেন আমি আর জীবনে এ ভুল করবোনা। কয়েক ঘন্টা সন্তান বিহীন কষ্ট মা হিসেবে আমি বুঝতে পেরেছি।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন