প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪ । ১:৫৯ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক

চাঁদপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ ফরিদগঞ্জ অফিসের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে চলছে হযবরল অবস্থায়। প্রতিমাসেই মিটারে ওঠা নির্ধারিত রিডিং-এর চাইতে অতিরিক্ত রিডিং তোলার কারণে অধিকাংশ গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল।

যে কজন গ্রাহকই অতিরিক্ত বিল নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন অফিসের বিল প্রস্ততকারক কোন প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া মুহূর্তেই পাল্টে দিচ্ছেন বিদ্যুৎ বিল। এর মধ্যে কোন কোন বিলের কাগজে ২০ ইউনিট থেকে একশত ইউনিট পর্যন্ত কমে গিয়ে বিল কমে যাচ্ছে শত টাকা থেকে হাজারের অধিক।

নিজের মিটারে উল্লিখিত ইউনিটের সঙ্গে বিলের কাগজের অতিরিক্ত একশ ইউনিটেরও বেশি পার্থক্য দেখতে পেয়ে বুধবার (২৬ জুন) সকালে বিলের কাগজ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে ছুটে যান ফরিদগঞ্জ পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার কনফেকশনারি দোকানদার আব্দুল আলী পাওয়ারী। বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বলতেই ১২৪৫ ইউনিটের উল্লিখিত ৫ হাজার ৫৩৮ টাকার বিলের কাগজ হয়ে যায় ১১০০ ইউনিটে ৩ হাজার ৩৬৭ টাকা।

একই অভিযোগ নিয়ে আসতে দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজনকে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শরীফ হোসেন জানান, আমার মিটারে এখনকার ইউনিট ৫ হাজার ২০০। অথচ বিদ্যুৎ অফিসের লোক আরও কয়েকদিন আগেই রিডিং তুলেছে ৫ হাজার ২৩০। তবে কি রিডিং তোলার পর এতদিন আমি বিদ্যুৎ ব্যবহার করিনি? বরং বিলের কাগজে উল্লিখিত তখনকার বিলের চাইতেও এখন কম হয় কিভাবে….? এখানে আসার পর ওনারা বিল পরিবর্তন করে কমিয়ে দিয়েছে। এমন ঘটনা গত কয়েক মাস ধরেই ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, যে মাসে সময় বের করে বিদ্যুৎ অফিসে বিল কমাতে পারি, সে মাসে কম দিতে পারি; নয়তো অতিরিক্ত বিলই দিতে হয়। এরকম ভোগান্তি আমাদের আর কত পোহাতে হবে?

আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার বলেন, আমার মিটারে রিডিং কম ওঠছে কিন্তু, বিলের কাগজে বেশি, এখানে আইসা বলাতে বিল কমাই দিছে। এরকম আগেও বহুতবার হইছে, বিলের কাগজ লই আইলে বিল কমাই দেয়। তাইলে বিদ্যুৎ অফিসের লোকরা দিনের পর দিন ভুল করে আমাগোরে কিল্লাই ভোগান্তিতে হালায়।

ভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসা আরও কয়েকজন জানান, বিদ্যুৎ অফিসের লোক রিডিং তুলতেই যাননি। তাদের মনগড়া রিডিং তোলার কারণে আমাদের অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে।

বিলের কাগজে অতিরিক্ত ইউনিট তুলে গ্রাহকদের এমন হয়রানির বিষয়ে কথা হয় বিদ্যুৎ অফিসের বিল প্রস্ততকারক এক কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি জানান, বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রিডিং তোলার কারণে এমন সমস্যা হতে পারে। গ্রাহকরা সমস্যা নিয়ে আসলে আমরা পরিবর্তন করে দিই। কোন প্রকার ডকুমেন্টস ছাড়াই কেন পরিবর্তন করা হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমি কিছু জানি না, ডিজিএম স্যার বলতে পারবেন।

চাঁদপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ ফরিদগঞ্জ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডি.জি.এম) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে জনবল সংকট রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে বয়োজ্যেষ্ঠ কয়েকজনকে দিয়ে কাজ করানোর কারণে এমন মিসিংগুলো হচ্ছে। চাঁদপুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিস আমাদের জনবল নিয়োগ দিলেও এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কাজে লাগানোর জন্য আমরা তাদের পাইনি।

সংশ্লিষ্ট কর্মী ভুল রিডিং তোলার পর অতিরিক্ত বিলের কাগজ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে আসার সাথে সাথে বিল প্রস্তুতকারক কোন প্রকার যাচাই-বাছাই না করে বিল কমিয়ে সংশোধিত বিল দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুন আমাদের ক্লোজিং মাস, অফিসের সব কর্মকর্তাদের প্রচুর কাজের চাপ যাচ্ছে, অন্য সময় হলে যাচাই-বাছাই করেই বিলের কাগজ সংশোধন করা হতো।

পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহকদের চলমান ভোগান্তি লাঘবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমারা যথাযথ জনবল পেলে এ ধরনের সমস্যাগুলো আর হবে না।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন