প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ । ৬:৪৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ইলিশের সস্তা দামের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী
ব্র্যান্ডিং জেলা চাঁদপুরের ইলিশের সুনাম দেশ-বিদেশে রয়েছে। আর সেই ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। এটা সবার জানা আছে। পৃথিবীর যেখানেই বাংলাদেশি ভাষাভাষী বসবাস করছে সেখানেই ইলিশের চাহিদা রয়েছে। এর স্বাদ নিতে অপেক্ষায় থাকে সবাই। সেজন্য ইলিশের বাড়ি শুধু চাঁদপুরে সীমাবদ্ধ নয়। ইলিশের বাড়ি বিশ্বজুড়ে। ইলিশ মাছ না হলে অপূর্ণ থেকে যায় উৎসব বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ।
সেজন্য ইলিশের কোনো বিকল্প নেই। তাই ইলিশই সেরা। আর এই বিখ্যাত ইলিশের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চাঁদপুরে ইলিশ মাছের চাহিদা ও সস্তা দামের লোভ দেখিয়ে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে একটি প্রতারক চক্র। চাঁদপুরে ভুয়া পেজ খুলে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে করছে প্রতারণা। একদিকে প্রতারণার শিকার হচ্ছে ক্রেতা, অন্যদিকে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও হচ্ছে বদনামের ভাগিদার।
চাঁদপুরে অনলাইনের মাধ্যমে দোকান রয়েছে ৪১টি। অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে বিক্রি করছে একটি প্রতারকচক্র। এতে ক্রেতারা বিকাশ বা নগদে টাকা পাঠানোর পর পাচ্ছেন না ইলিশের দেখা। লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই প্রতারকচক্র।
সারাদেশে ভুয়া পেইজ খুলে চাঁদপুরে নাম করে ভুয়া অনলাইন পেইজ খুলে লোভনীয় অফারে ক্রেতা আকৃষ্ট করে বিক্রি করা হচ্ছে চাঁদপুরের ইলিশ। কোনো ক্রেতা সেই অফার দেখে আকৃষ্ট হয়ে ইলিশ নিতে চাইলে অগ্রিম কিছু টাকা চাওয়া হয় অর্ডার কনফার্ম করার জন্য। কিন্তু টাকা পাঠানোর পর থেকে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। পেইজে মেসেজ দিলেও আসে না রিপ্লে, আবার পেইজে দেওয়া নম্বরে ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। দর-দামের পর দ্রুত বিকাশে অগ্রীম লেনদেন করে অর্ডার নিশ্চিতের পর সেই মোবাইল নাম্বারটি ব্লক করে দেয় প্রতারকচক্র। এতে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে দেশ-বিদেশের অনেক ক্রেতা। তবে ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেমে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির কথা জানান বৈধ অনলাইন ব্যবসায়ীরা। চাঁদপুরসহ অন্যান্য অঞ্চলে প্রশাসন ৪১টি বিশ্বস্ত পেজের তালিকা প্রকাশ করেছে এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত থানায় অভিযোগ করার জন্য উৎসাহিত করছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমরা প্রতিদিন একাধিক অভিযোগ পাচ্ছি অনলাইন মাধ্যমে প্রতারণার করে ফেইসবুক পেজ খুলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আমি একটা কথাই জনগণের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যারা এই ভুয়া পেজ খুলে মানুষদেরকে প্রতারণা করছে আমি তাদেরকে বলবো ক্যাশ ওয়ান ডেলিভারিতে আপনারা লেনদেন করবেন। আপনারা কেউ প্রতারিত ফাঁদে পা দিবেন না।
পুলিশ সুপার বলেন, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান-পেইজের সঙ্গে লেনদেন সম্পর্কিত কোনো ঝামেলা হলে আমাদের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একটি সঙ্ঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এরা মানুষকে মাছের দাম কম দেখিয়ে মাছের দাম কম দেখিয়ে গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করে টাকা নিয়ে তারা মাছ দেয় না। আমাদের মৎস্য সমিতির থেকে বলা আছে আপনারা কেউ অগ্রিম লেনদেন করবেন না। যাচাই বাছাই করে লেনদেন করবেন যাচাই-বাছাই করে মাছের অর্ডার দিবেন। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পেইজ নকল করে সারাদেশে আনাছে-কানাছে একটি প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। তারা আগেই টাকা হাতিয়ে নেয়। যারা এই ভুয়া পেজ দিয়ে অনলাইনে ব্যবসা নাম করে মান সম্মান খুন্ন করছে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলা পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
ইতোমধ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ‘অনলাইনে ইলিশ ক্রয়ে প্রতারক হতে সাবধান!’ হওয়ার জন্য একটি সতর্কতা বার্তা ও হটলাইন নম্বর (০১৩২০১১৬৮৯৮) দিয়ে প্রচারণা শুরু করা হয়।
অনলাইনের মাধ্যমে ইলিশ মাছ কিনে প্রতারিত ক্রেতারা জানান, আমরা অনলাইনে মাধ্যমে ইলিশ মাছ কিনে প্রতারিত হয়েছি। যারা আমাদের থেকে টাকা আত্মসাৎ করছে তাদের আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। অনলাইনে লোভনীয় অফার দেখে চাঁদপুরের মাছঘাটে আসলাম, কিন্তু এসে দেখি মাছের দাম অনেক বেশি। অনলাইনে দেখানো দামের সঙ্গে কোনো মিল নাই।
প্রসঙ্গ: বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। এর মধ্যে চাঁদপুর হলো ইলিশের রাজা। পদ্মা, মেঘনার ইলিশের স্বাদ বাংলার মানুষের মুখে মুখে প্রশংসিত। বাংলাদেশ ইলিশ রফতানি করে অনেক দেশীয় মুদ্রা আয় করে। যা দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখে। এই জেলার অন্যান্য খ্যাতি থাকলেও ইলিশই যেন চাঁদপুর জেলার সুনামকে সব জায়গায় ধরে রেখেছে। বিশ্বজুড়ে নামিদামি প্রায় একশ ব্র্যান্ড রয়েছে। প্রতিটি ব্র্যান্ড মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। নামিদামি ওই ব্র্যান্ডের সঙ্গে যখন ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ইলিশ ব্র্যান্ডিংয়ের অন্তর্ভূক্ত হবে তখন চাঁদপুর জেলা বিশ্ব দরবারে নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে। মানুষের মাঝে একটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে চাঁদপুরের ইলিশ।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন