চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জড়িত ছাত্র-জনতার প্রথম রাজনৈতিক দল “জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ” এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক পদ লাভ করেছেন সাংবাদিক ও সংগঠক জাকির মজুমদার।
তিনি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ মজুমদার বাড়ির সন্তান।
গত ১৬ ডিসেম্বর সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে যাত্রা শুরু করেছে মুসলিম জাতীয়তাবাদী ভাবধারার নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
পরে ১৮ ডিসেম্বর বুধবার নতুন এই দলটির ৭৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আনিসুর রহমানকে রাজনৈতিক প্রধান, মোহাম্মদ শাফিউর রহমানকে সাংগঠনিক প্রধান ও খোমেনী ইহসানকে আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাসান মোহাম্মদ আরিফকে সদস্য সচিব মনোনীত করা হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ এর কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন; যুগ্মআহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম, সাংবাদিক জাকির মজুমদার, রোটারিয়ান রাবেয়া আখতার, নুসরাত রহমান, তামিমা জোবাইদা, সালমান বিন ফারুক, ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও সাইয়েদ কুতুব।
যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন- ইঞ্জিনিয়ার ইমামুল হক, আব্দুস সালাম, সৌরভ শাকিল, সাব্বির আহমেদ, ডা. মাসুম বিল্লাহ, গুলবুদ্দিন গালিব ইহসান ও সাইদ আহমেদ।
এছাড়া কমিটিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নারী শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, শিল্পী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দায়িত্বের জন্য সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ এর যুগ্ম আহবায়ক জাকির মজুমদার পেশাগত জীবনে একজন সফল সাংবাদিক। তিনি নিজ এলাকায় সাংবাদিকতার হাতেখড়ি নেন। হাজীগঞ্জ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক মানবসমাজ পত্রিকার তিনি প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও প্রকাশক। হাজীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। এছাড়া হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর ও ঢাকায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানবাধিকার এবং সাংবাদিক সংগঠনের তিনি উদ্যেক্তা, প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি ঢাকায় আগ্রাসন বিরোধী জাতীয় কমিটির একজন উপদেষ্টারে দায়িত্বও পালন করছেন।
জাকির মজুমদার ঢাকায় দৈনিক যুগান্তর, বার্তা সংস্থা ইউএনবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। তিনি একজন নিয়মিত কলাম লেখক এবং কবি।
বিগত ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচার সরকারের তিনি সমালোচক ছিলেন। অনলাইনের বিভিন্ন প্লাটফর্মসহ মুলধারার গণমাধ্যমে তিনি পতিত সরকারের নীতির বিপক্ষে লেখালেখিসহ সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। এর পাশাপাশি সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। যার কারণে তিনি বেশ কয়েকবার পতিত সরকারের দোসরদের রোষানলে পড়ে চাকরিচ্যুত হন। কিন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের গণবিরোধী নীতির বিপক্ষে তিনি কখনো আপোস করেননি।
চব্বিশের জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত গণবিপ্লবের পর ছাত্র-জনতার প্রথম রাজনৈতিক দল “জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ” এর তিনি যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে মনোনীত হওয়ার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মীর স্বীকৃতি পেলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিনিধি