প্রকাশের সময়: রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ । ৭:৪৯ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

২০ বছর ধরে বিদ্যুৎ বঞ্চিত মতলবের সুফিয়া!

মনিরুল ইসলাম মনির
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে দুষ্ট প্রতিবেশীর বাঁধায় ২০ বছর ধরে বিদ্যুৎ বঞ্চিত অসহায় সুফিয়া বেগম। তার বাড়ি উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সাহাবাজ কান্দি গ্রামে। বিদ্যুৎ বঞ্চিত ৮০ বছর বয়সী অসহায় সুফিয়া বলেন বেগম মানবেতর জীবন যাপন করছে।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে স্বামী হারা সুফিয়ার বেগম দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। ঘর অন্ধকার, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। কারন জানতে চাইলে সুফিয়ার চোখে জল এসে যায়।
কান্না জড়িত কন্ঠে সুফিয়া বেগম জানান, আমার স্বামী বহু আগেই মইরা গেছে। আমার নেই কোন সন্তান সন্ততি। একটি মাইয়া সন্তান দত্তক আইন্না লালন পালন কইরা বিয়া দিয়া দিছি। এখন আমি অসহায়। আমি বুড়ো হইয়া গেছি। আমার বাড়ির দেওর পুত খোরশেদ আলম আমার সম্পত্তি জোর কইরা নেওয়ার লইগ্গা আমার উপর অবিচার করতাছে। আমি যাতে ঘর থেকে বের হইতে না পারি এই জন্য আমার ঘরের সামনে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি যতবার বিদ্যুৎ জন্য আবেদন করি ততবারই মিথ্যা মামলা দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। গ্রামের সালিশদের কোন কথাই শুনেন না তারা। রাইতের বেলায় মোমবাতি, কুপি ও হারিকেন দিয়ে রাতের খাবার ও নামাজ পড়ি। আমি মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমিকি কখনো বিদ্যুতের আলো দেখবো না?
স্থানীয় করেকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, খোরশেদ একজন দুষ্ট প্রকৃতির লোক, সমাজের কারো কথাই শুনে না। সে নারায়ণগঞ্জে পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে মিটার রিডার হিসেবে চাকরি করে। বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ার কৌশল সে জানে, এই কারনে সুফিয়ার বিদ্যুৎ সংযোগ আবেদন করলেই সে বাধা দেয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খোরশেদ আলম জানান, সুফিয়া যে জায়গায় বাসবাস করছে সেই জায়গা নিয়ে কোর্টে একাদিক মামলা রয়েছে। এই জায়গা আমার।
ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি এবং কয়েকবার খোরশেদ আলমের পরিবারের লোকজনের সাথে কথা হয়েছে। তাদের দুই পরিবারের মধ্যে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ মতলব উত্তর জোনাল অফিসের এজিএম মো. রায়হানুল ইসলাম জানান, সুফিয়ার বেগমের নামে একটি বিদ্যুতের মিটার বরাদ্দ রয়েছে। কয়েকবার আমাদের অফিসের লোকজন মিটার সংযোগ দেওয়ার জন্য ঐ বাড়িতে গেলে খোরশেদ আলমের লোকজন বাধা দেওয়ায় এখনো সংযোগটি আমরা দিতে পারিনি।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একি মিত্র চাকমা জানান, এ বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে শুনতে পারলাম। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিব।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন