শাহরাস্তিতে কৃষি জমির মাটি (টপ সয়েল) কাটার দায়ে অভিযুক্তকে ২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
বৃহস্পতিবার শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে এ দন্ড প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইয়াসির আরাফাত নির্দেশে উপজেলা সহকারি কমিশনার ( ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরী এ অভিযান পরিচালনা করেন।
ওইসময় সূচিপাড়া উত্তর ইউপির শোরসাক গ্রামের ফসলি জমির মাঠে অভিযুক্ত তোফাজ্জল এক্সকেভেটর মিশন দিয়ে কৃষি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছিল। পরে প্রশাসন অভিযুক্ত তোফাজ্জলকে কৃষিজমি ধ্বংস করার অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ০২ (দুই) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এসময় কৃষি জমি ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটরটি জব্দ করা হয় ও উপজেলা কৃষি অফিসার, শাহরাস্তির জিম্মায় প্রদান করা হয়। এই দন্ড প্রদান করেন,উপজেলা সহকারি কমিশনার ( ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরী।
এ অভিযানে সহায়তা করেন শাহরাস্তি থানা পুলিশের একটি টিম।
এ প্রসঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, কৃষিজমির মাটি (টপ সয়েল) বিক্রয় ও পরিবহনের দায়ে এ দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া কেউ যদি অবৈধভাবে কৃষি জমির উর্বরমাটি কেটে তা বিক্রি এবং কেউ পরিবহন করলে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মুচলেকা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, সে আর এমন কাজ করবে না। কিন্তু মাত্র দুই দিন পরেই সে পুনরায় মাটি কাটার কাজে লিপ্ত হয়, যেন সরকারি প্রতিশ্রুতির প্রতি তার কোনো মূল্যবোধ নেই।
এদিকে মাটি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনের লঙ্গনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকারি ফেসবুক পেইজে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যা নিম্নে তুলে ধরা হলঃ
মানুষের নিষ্ঠুরতায় ক্ষতবিক্ষত কৃষি জমি; যেখানে দুলত সোনালি শস্যের ঢেউ, সেখানে আজ বিবর্ণ বিরানভূমির করুণ দৃশ্য। সবুজ ফসলের সৌন্দর্য, যা ছিল কৃষকের স্বপ্ন ও জীবনের আলো, তা রূপ নিয়েছে ধ্বংসের নীরব স্মৃতিচিহ্নে। মাটির মায়ার সুর, যা একদিন জীবনের জয়গান গেয়েছিল, আজ নীরব হয়ে বয়ে আনছে গভীর হাহাকার। মানুষরূপী কিছু খাদকের নিষ্ঠুর লোভ আর নির্মম আঘাতে প্রকৃতির বুকে জেগে উঠছে এক অব্যক্ত আর্তনাদ।
প্রকৃতির হৃদয়ে জমে থাকা অশ্রু যেন প্রশ্ন তোলে, “কোথায় হারালো সেই মানবতা, যেখানে ভূমি ছিল জীবন, আর জীবন ছিল তার বন্দনা?” এ যেন নিজের শেকড় কেটে ফেলা মানুষের আত্মঘাতী অধ্যায়, যেখানে মাটির প্রতিটি কণা আর্তস্বরে ডাকে হারানো মানবিকতার জন্য।

মোঃ মাসুদ রানা