চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি স্কুটার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১২ বছর বয়সী কাজী তাইম নামে স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় বাবা মা সহ একই পরিবারের আরো চারজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
ছেলের মৃত্যুর খবর এখনো জানেনা পিতা মাতা। দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে কুমিল্লায়।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের কুমারডুগি এলাকায় চাঁদপুরগামী আইদি পরিবহন বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি স্কুটারের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে সিএনজিতে থাকা পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হলে একজন মারা যায়।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত স্কুল ছাত্র কাজী তাইম হাজিগঞ্জ উপজেলার টোরাঘর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর কাজী মনিরের ছেলে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় নিহতের মা সিমা আক্তার, বাবা কাজী মনির, একই পরিবারের মিথিলা ও সামিয়া। তারা সপরিবারে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে চাঁদপুরে এসে সিএনজি যোগে হাজিগঞ্জ যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ছেলের মৃত্যুর খবর এখনো জানে না তার বাবা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট থেকে পাঁচ জন যাত্রী নিয়ে হাজীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয় সিএনজি চালক। কুমারডুগি এলাকায় আসার পর একটি অটো রিক্সাকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী আইদি পরিবহন বাসের সাথে সংঘর্ষ লাগে। এ সময় সিএনজিটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে এই ঘটনায় সিএনজি চালক দায়ী কারণ বেপরোয়া গুতিতে এসে ওভারটে করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানায়।
পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। দুর্ঘটনার শিকার বাস ও সিএনজি জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রবিবার সকাল ৯টায় হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে কাজী তাইমের নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সম্প্রতি কুমারডুগী এলাকায় এর পূর্বেও অনেক সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ গিয়েছে। অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে অবৈধ সিএনজি ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মাসুদ হোসেন