প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫ । ১২:০৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পড়ালেখা না জানা কাকন গাজীর কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক

১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতাদেরকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এলাকাই বহাল তবিয়তে বসবাস করছেন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের চাঁদপুর পৌর ১৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি কাকন গাজী। ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত ছিলো।

জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাসভবন পোড়ানোর সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে হওয়া মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী এই কাকন গাজী।

পিতা মিজান গাজী ও মাতা সেলিনা বেগম। পিতা ছিলেন ট্রাকের হেল্পার। এক সময়ে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো কাকনের পরিবারের। আর্থিক অভাবের কারণে পড়ালেখাও করতে না পারা কাকন জড়িয়ে পড়ে উচ্ছৃঙ্খলতায়। তারপর আওয়ামী দুঃশাসনের সময় কতিপয় যুবলীগ নেতার ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে যায়। নিজেকে দাবী করে ছাত্রলীগ নেতা। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বনে যায়, আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ।

বর্তমানে ৪ তলা ভবনসহ রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। যার পুরোটাই অবৈধ উপায়ে। মাদক বিক্রি, এলাকার নিরীহ মানুষের জায়গা দখল, চোরাই মাল নদী পথে পাচারে সহযোগিতা, চোরাই মোটর সাইকেল বিক্রিসহ বহু বড় ধরণের অপরাধে জড়িয়ে পরে। আঁকরে ধরে ছাত্রলীগের পদকে। টাকা খরচ করে হয়ে যায় ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি। তারপরতো আর পিছনে ফিরে তাকাতেই হয়নি তাকে। যখন যেভাবে পেরেছে মানুষকে মেরেছে, অত্যাচার করেছে, নীরিহ মানুষের নিজ ভূমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করেছে, রেলওয়ের জায়গা জোরপূর্বক ক্ষমতা প্রদর্শন করে দখল করে খামার দিয়েছে। এলাকার মানুষ তার উপর এতটাই অতিষ্ঠ ছিলো যে, তারা দু হাত তুলে আল্লাহর কাছে তার বিরুদ্ধে বিচার দিতো।

জেলা পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ জায়গা চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থেকেই এত পরিমান অপকর্ম করে বেড়ালেও ব্যবস্থা নিতে পারতো না কেউই। প্রথমত পুলিশের অসাধু কয়েকজনকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজ আর দ্বিতীয়ত বাকীদেরকে নিজ ক্ষমতার দাপটে জব্দ করে রাখতো। এমনো দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়কের মাথায় পুলিশের চেক পোস্টের সামনে দিয়েই মাদক ও চোরাই মোটর সাইকেল নিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতো কাকন। চেক করার সম্ভাবনা দেখলেই ঢুকে পড়তো সাবেক মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েলের বাড়িতে। যেখানেই টাকা পেতো সেখানেই যুক্ত হয়ে যেতো এই সন্ত্রাসী কাকন গাজী। টাকার বিনিময়ে চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে নিজ দলের নির্দেশনার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্য দলের মহিলা প্রার্থী শাহিনা আক্তারকে কেন্দ্র দখল করে জোর পূর্বক বিজয়ী করতে বড় ভূমিকা পালন করে।

এলাকার মানুষ কাকন গাজীর উপর খুবই অতিষ্ঠ ছিলো। কিন্তু মুখ খুললেই লাঞ্ছিত ও মারপিটের শিকার হতো। তাই ভয়ে মুখ খুলতো না অনেকেই। কিছু নীরিহ লোক উপায়ন্তর না পেয়ে বিচার নিয়ে যেতো তৎকালীন মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েলের কাছে। কিন্তু বিচারকি পেতো? না বিচার কখনোই পেতো না। এ নিয়ে তৎকালীন মেয়রের প্রতিও মানুষের প্রচুর ক্ষোভ ছিলো। যার ফলে ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ঝেড়েছে মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েলের ১৩নং ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু সড়কস্থ বাসভবনে।

জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাসভবন পোড়ানোসহ কয়েকটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামী এই কাকন গাজী। ৫ আগস্টে নিজ দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও মেঘনা নদী রক্তে লাল করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া কাকন গাজী নিজেই দাম্ভিকতার সাথে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার শ’ শ’ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে। তবুও এলাকাতেই বহাল তবিয়তে আছে এই সন্ত্রাসী কাকন গাজী। দিনের বেলায় ঘর থেকে বের না হলেও রাতের বেলায় বের হয়। আর পুলিশ আসার আগেই ইনফরমেশন পেয়ে যায় ওয়ার্ড বিএনপির নেতাদের কাছ থেকে। লুকিয়ে পড়ে নিরাপদ স্থানে। ওয়ার্ড বিএনপির নেতা কয়েকজনকে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ম্যানেজ করেই পার পেয়ে যাচ্ছে হাজারো অপরাধের গড ফাদার কাকন গাজী।

নাম প্রকাশ্যে অনেচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায়, সন্ত্রাসী কাকন গাজীর কার্যকলাপে এলাকার মানুষ বিধ্বস্ত। তারা কখনোই এই কাকন গাজীর বিরুদ্ধে বিচার পেতো না। বিচার দিতে গেলে উল্টা আরো আক্রমনের শিকার হতো। এলাকার যুব সমাজের ভিতর মাদক ছড়িয়ে দেয়। কোন কিছু নিয়ে ডাক দিলে উল্টো বিভিন্নভাবে বেকায়দায় ফেলে মানুষকে। আমার বিপক্ষের মানুষের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা খেয়ে আমাকে আমার নিজ মালিকীয় ঘর থেকে বের করে দেয়। এ বিষয়ে সাবেক মেয়রের কাছে বিচার দিলে উনি কোন বিচার করে নাই। দেখি দেখতেছি বলেই শেষ। উল্টা বিচার কেন দিলাম? এ নিয়েও হামলার শিকার হইছি কাকন গাজীর হাতে।

এলাকাবাসী জানায়, ভূমি দস্যু, মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাই সিন্ডিকেটের হোতা সন্ত্রাসী কাকন গাজী ১৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের উপর এত পরিমান অত্যাচার করেছে যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকার পর যেই পরিমান অত্যাচার করেছে, মানুষ ভেবেছে হাসিনা সরকার পতনের পর এই কাকন গাজীর বিচার হবে। কিন্তু বর্তমানে ওয়ার্ড বিএনপির কতিপয় নেতাদের কারণে কাকন গাজীর পুনর্বাসন দেখে মানুষ বিএনপির প্রতি আরো হতাশ হচ্ছে। কাকন গাজীর মতো সন্ত্রাসীরা কি পার পেয়ে যাবে বারে বার?

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন