প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫ । ৩:৪৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পরকীয়ায় ৩ সন্তানের জনককে গলা কেটে হত্যা

মো. মাসুদ রানা ও রাফিউ হাসান হামজা

শাহরাস্তিতে পরকীয়া ও আর্থিক বিবাদে তিন সন্তানের জনক মো: আলমগীর হোসেন (৩৭) নামে এক শ্রমজীবী যুবককে দুর্বৃত্তরা জবাই করে হত্যা করেছে।

মঙ্গলবার ওই হত্যাকান্ডের কয়েক ঘন্টার মধ্যে রহস্য উন্মোচন করে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত দুই নারী মা ও মেয়েকে পুলিশ আটক করে চাঁদপুর কোট হাজতে প্রেরণ করেছে।

একই সঙ্গে নিহত আলমগীরের মরদেহ চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

সোমবার দিনগত রাত ৮ টার সময় শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপির মনিপুর গ্রামের ছোলেমান মাস্টার (বেপারী বাড়ির) সৌদি আরব প্রবাসী আবুল হোসেন মানিকের পাকা দালানের ছাদের উপর এ মরদেহের সন্ধান মিলে।

এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বিল্ডিং এর মালিক আবুল হোসেনের স্ত্রী খোদেজা বেগম প্রকাশ পান্না (৫০) তাদের মেয়ে, জনৈক তুষারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার সোনিয়াকে(৩০) অভিযুক্ত করে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নাম্বার (১৫) তারিখ: ১৮/০৩/২০২৫ইং ধারা ৩০২/৩৪ দঃবিঃ।

মামলার এজাহার সূত্রে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহতের সাথে ওই অভিযুক্ত দুই নারী মা খোদেজা এবং মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়াদি জড়িত রয়েছে। ওই বিবাদের ধুম্রজালে হত্যাকান্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। একই সঙ্গে ওই হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত রয়েছে পুলিশ তাও খতিয়ে দেখছে।

এদিকে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনিয়া এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। সোনিয়া তার সাথে আলমগীরের সম্পর্ক ছিল বলেও জানায়। আলমগীর তাকে খুবই বিরক্ত করতো। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সোনিয়া জানায়, উপজেলার চিতোষী বাজার থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চুরিটি কেনা হয়। ওই চুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করা হয় তাকে। আলমগীরের স্ত্রী তাছলিমা বেগম জানান, আমার স্বামী সোনিয়ার কাছে ১২ লাখ টাকা পাবে। টাকা দিবে বলে সোনিয়া ফোন করে আমার স্বামীকে বাসায় নিয়ে খুন করে। পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ওই রাতে প্রবাসী গৃহকর্তা মানিকের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া বিল্ডিং এর পাশ দিয়ে তার সম্পর্কে ছোট ভাই নজরুল ইসলাম শিপন তারাবির নামাজ আদায় শেষে ঘরে ফিরছিলেন। ওই এলাকা অতিক্রমের সময় ঘটনা সংঘটিত হওয়া বিল্ডিংয়ের ছাদে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। পরে তিনি চোর চোর বলে চিৎকার করে ওই বিল্ডিং এর গৃহকর্তী প্রবাসী মানিকের স্ত্রী তার সম্পর্কে ভাবি খোদেজা বেগমসহ ছাদে উঠেন শিপন।

উঠেই দেখেন,পার্শ্ববর্তী নতুন বাড়ির মৃত শহীদ উল্লাহর পুত্র আলমগীর হোসেনকে কেবা কারা গলা কেটে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাহত করে নিথর দেহ ফেলে রেখেছে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে একই দৃশ্য দেখতে পেয়ে সেখানে ভীড় জমায়। ওই সময় নিহতের স্বজন মো. জাহিদ হাসান ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোনে ৯৯৯ ফোন দিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে মুহূর্তের মধ্যে ওই সংবাদ চারদিকে চাউর হলে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আবুল বাসার একদল পুলিশ সঙ্গীও ফোর্স নিয়ে ঘটরাস্থলে হাজির হন।

মধ্যরাত অবধি পিবিআইর অতিরিক্ত ডিআইজি মোস্তাইন হোসেন, কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রিজওয়ান সাঈদ জিকোসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করে।

হত্যাকান্ডের শিকার আলমগীর প্রসঙ্গে স্থানীয়রা বলছেন, এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক তিনি। তার স্ত্রীর নাম তাছলিমা বেগম। সে একজন নম্র ভদ্র,  প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত মাইকিং পেশা (মাইকম্যান) ও বটবটি চালিয়ে শ্রমজীবী মানুষ হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করত। ঠিক কি কারনে তিনি এই নির্মমহত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন, তা কারো বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো: আবুল বাসার জানান, দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহতের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের  চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চুরি ও আলামত জব্দ করেছে।

একই সঙ্গে অভিযুক্ত মামলার দুই নারী আসামিকে আটক করেছে।

অন্য অভিযুক্ত আসামীদের আটকের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন