সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সারা দেশে দুস্থ, বিধবা, অসহায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি সুবিধাভোগী ভাতা চালু করা হয়েছে।
কচুয়ায় একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সুবিধাভোগী সরকারি ভাতার টাকা অনেকে হারাচ্ছেন। প্রতারক চক্রটি নানা কৌশলে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ হয়েছে। এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কচুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলাম কচুয়া থানায় ১১ মার্চ একটি লিখিত জিডি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করেন। যাহার জিডি নং-৬০২।
জিডিতে উল্লেখ করেন,একটি প্রতারক চক্র অসহায়,সরল, নিরক্ষর,সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে উপকারভোগীদের নিকট থেকে দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরিকৃত ভূয়া “সুবর্ণ নাগরিক কার্ড” বিতরণ করছে, যা উওঝ সফটওয়ারে নিবন্ধন নয়। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে শতভাগ ভাতা কার্যক্রমের সময় থেকে অদ্যাবধি এ চক্র তৎপর রয়েছে কচুয়ায়। তাদের ফাঁদে পড়ে অসংখ্য ব্যক্তি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও হয়রানি হয়েছে।
উল্লিখিত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যপক প্রচারণা সত্ত্বেও প্রতি অর্থবছরে নতুন বর্ধিত প্রতিবন্ধী ভাতার বরাদ্দের আলোকে সুবিধাভোগী নির্বাচনের সময় এ চক্র সক্রিয় হয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বর্ধিত প্রতিবন্ধী বরাদ্দের উপকারভোগী নির্বাচনকে সামনে রেখে উক্ত চক্রগুলো সক্রিয় হয়েছে মর্মে জানা যাচ্ছে। বিগত ৩ বছর ধরে চক্রের কতিপয় সন্দেহজনক কয়েকজন দালালকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তিবর্গ হচ্ছেন বিতারা গ্রামের মৃত তৈয়ব আলী মেয়ে লিপি আক্তার, বুধুন্ডা গ্রামের ইউপি সদস্য হারুন শেখ, সহদেবপুর গ্রামের ফরিদা অরফে নার্গিস,সহদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ আঃ জলিল।
এছাড়াও কচুয়া সমাজসেবা অফিসের সাবেক সহকারী-যুক্ত-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এমদাদ হোসেন খান জড়িত রয়েছেন। বর্তমানে এমদাদ হোসেন খান কুমিল্লা,লালমাই উপজেলা সমাজসেবার বর্তমান অফিস সহকারী-যুক্ত-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক কর্মরত রয়েছেন।
জিডি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোরশেদ আলম জানান, জিডিতে উল্লেখিত প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রতারক চক্রটিকে বের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাহিদ ইসলাম জানান, ভৌগলিকভাবে কচুয়া উপজেলা একটা প্রতিবন্ধীপ্রবণ অঞ্চল। জন্মগতভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্মগ্রহণ করছে।
এছাড়া দুর্ঘটনা এবং অসুস্থতার কারণেও প্রতিনিয়ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি প্রতিবন্ধিতা বরণ করছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উপজেলা কমিটি কর্তৃক নিয়মিতভাবে নীতিমালা অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সনাক্তকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে উওঝ (Disability Information System) সফটওয়ারে নিবন্ধনপূর্বক ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।
একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে আমার অফিসের বিভিন্ন উপকারভোগীদেরকে হয়রানি করছে। বিভিন্ন জালিয়াতি মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচনের সময় এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া