গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে শাহরাস্তিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি গেইটের দোয়াভাঙ্গা এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ইসরাইল বিরোধী বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশগ্রহণ করেন সর্বস্তরের জনগন। ওই সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান আয়োজকরা।
আয়োজনের স্থলে গিয়ে জানা যায়, গাজা সংকটের প্রতিবাদমঞ্চটি অল্প সময়ের ব্যবধানে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। অংশগ্রহণ করা হাজারো মানুষের মিছিল, গগনস্পর্শী স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড হাতে জনস্রোতের ঢল প্রমাণ করে -গাজার প্রতি মুসলিম ভাতৃত্বের সহানুভূতি ও পাশ্চাত্য বিশ্বের নিরবতা নিয়ে তাদের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ।
ওই সময় ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে উপজেলার দোয়াভাঙ্গা, উপজেলা সদর ও চিতোষী পশ্চিম ইউপিতে একযোগে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহন করে সংহতি প্রকাশ করে।
সেই মিছিল পরিণত হয় বিশাল জনসমুদ্রে, অংশগ্রহণকারীদের প্রতিবাদের প্রতিটি ধ্বনি মুসলিমউম্মাহ নেতৃবৃন্দকে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরো বলেন, “গাজায় প্রতিদিন রক্তপাত চলছে, নারী-শিশু নির্বিশেষে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, অথচ তথাকথিত সভ্য বিশ্বের নেতারা নিশ্চুপ। এই নিরবতা আসলে হত্যাকারীদের প্রতি এক ধরনের সমর্থন।” তারা আরও বলেন, “আমরা আর চুপ থাকবো না। আমরা গড়ে তুলবো প্রতিবাদ মঞ্চ।
বক্তারা ইসরায়েলি পণ্যও বয়কটের আহবান জানিয়ে বলেন, “ভোক্তা হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে এসব আগ্রাসীদের পণ্য বর্জন করার। তারা ঘুমন্ত মুসলিমদের মানবতার পক্ষে জেগে উঠার আহ্বান জানান। এই বিক্ষোভে ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক পরিষদ, ব্যবসায়ী সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেয়, যা প্রমাণ করে-গাজার সংকট শুধুই একটি ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং তা আজ মানবতা রক্ষার এক বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আমরা রাজনীতি বুঝি না, কিন্তু আজ গাজায় যা হচ্ছে তা চোখ বিদীর্ণ করে জল আনছে। তাদের কষ্টে আমরা ঘুমাতে পারিনা। এখন আর চুপ করে থাকার সময় নেই। তাই শাহরাস্তির তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে-মানবতা কোনো কূটনীতির মোড়কে বন্দি নয়, বরং তা হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা এক সময়োপযোগী আর্তনাদ।
এই মিছিল শুধু গাজাবাসীর প্রতি সহমর্মিতার বার্তা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মার ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করার সঠিক সিদ্ধান্ত। আসুন দলমত নির্বিশেষে সবাই
গাজার অলিতে গলিতে পাহাড়ে ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ বলে অনাথ শিশুদের সহানুভূতিতে একাত্ম হই।

মোঃ মাসুদ রানা