বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের ধারায় মেলা অন্যতম অনুষঙ্গ। মেলা বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকজ উৎসব। মেলা শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে আনন্দের অনুভূতি হয়। বাঙালির এক অনুপম উপদান হলো বাঙালি সংস্কৃতি। বাঙালির এমন সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে চলে এসেছিল চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র মহামায়া বাজারে।
জনগুরুত্বপূর্ণ এই বাজারটিতে প্রতি বছরই বসেছে বৈশাখী মেলা। কিন্তু এবছর এর কোন কিছুই চোখে পড়েনি।
সরকারি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বাংলা নতুন বছর এসেছে গত ১৪ এপ্রিল সোমবার। কিন্তু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের বৈশাখী উৎসব পালন করেছে ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার। তাদের উৎসবের দিনেই প্রতি বছর খুব উৎসাহ উদ্দীপনায় মহামায়া বাজারে বসতো গলিয়া নামের এই বৈশাখী মেলা। জানা যায়, বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে চাঁদপুর সদরের এই মহামায়া বাজারের নাম। এখানে বৈশাখী মেলা নামের গলিয়া না বসায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অনেকে আবার স্মৃতিচারণও করেছেন এই মেলা নিয়ে।
প্রতি বছরের গলিয়ায় বিভিন্ন মুখরোচক খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি ভুভুজেলা, বাঁশি, পুতুল, ঝুনঝুনি, প্লাস্টিকের হাড়ি-পাতিলসহ শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা বিক্রি করা হতো। মেলায় পাওয়া যেতো রঙ-বেরঙের পোশাক, হস্তশিল্প পণ্য, মাটির তৈজসপত্র, মাটির গয়নাসহ নানা রকম অলঙ্কার। ঐতিহ্যবাহী মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা, মোয়া, লাড্ডু, কদমাসহ বিভিন্ন মিষ্টান্নও বিক্রি হয়নি এবছর। ছিল না কোন দর্শনার্থী কিংবা শিশু কিশোরের হৈ-হুল্লোড়। বাজারে দেখা যায়নি এর কোন কিছুই।
এ নিয়ে মনির পাটওয়ারী নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, ছোট কালে মহামায়া বাজারে পহেলা বৈশাখের দিন ঘুরতে যাওয়া, হরেক রকমের জিনিস পত্রের কেনার মাঝে যে আনন্দ টা পেতাম, সেই আনন্দ কোন কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব না। আজ সেই ঐতিহাসিক বাজারে পহেলা বৈশাখের আমেজ নেই শুনে সত্যি অনেক খারাপ লাগে। স্বপ্নিল পবন নামে আরেকজন লিখেন, একসময় প্রতিবছর সেই মেলায় গিয়ে আম কাটার ছুরি, খেলনা কিনার জন্য মুখিয়ে থাকতাম।
আহ কি স্মৃতি। বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের এই বাজারে প্রতি বছর মেলা বসে এসেছে। আশ পাশের মধ্যে এ বাজারেই মেলা হতো। দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের এই বৈশাখী মেলায় সমাগম হতো। কিন্তু এবছর মেলা না হওয়ার কারন কি, কোন কিছুই বুঝি না। তবে মেলাটি যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য প্রশাসনের সুর দৃষ্টি কামনা করছি।

মাসুদ হোসেন