দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশিরবিন্দু। রবীন্দ্রনাথের এই কবিতার মত অনেকেই বাইরের দেশে ঘুরতে যান অথচ নিজের দেশের রুপ সৌন্দর্য দেখেন না। কিন্তু মাতৃভূমির রুপ সৌন্দর্য ঠিকই অবলোকন করেছেন চাঁদপুরের দুই যুবক। “ভ্রমণই হোক মাদক নির্মূল এর মূল হাতিয়ার” এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে মোটরসাইকেল চালিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পাড়ি দিলেন নাজমুল হাসান বাঁধন ও সাদ্দাম হোসেন নামের দুই যুবক।
তাদের দুজনের বাড়ি চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া! দেশের এ দুই প্রান্তের দূরত্ব প্রায় এক হাজার কিলোমিটারের মতো। প্রচন্ড গরমের মধ্যেও মাত্র ১৫ ঘন্টায় বিশাল এই দূরত্ব মোটরসাইকেল চালিয়ে পাড়ি দিয়েছেন তারা। তাদের দুজনের দাবি, চাঁদপুর থেকে এই প্রথম বাইক চালিয়ে এত লম্বা পথ অর্থাৎ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণ করেছেন। তবে তারা এর আগে দেশের বিভিন্ন জেলা ভ্রমণ করেছেন এই বাইক চালিয়ে। এতে তারা খুব সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
ভ্রমণের নেশা তাদের অনেক আগে থেকে । ঘুরেছেন দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। ভ্রমণ পিপাসু নাজমুল হাসান বাঁধন যখনই সুযোগ পান তখনই তিনি ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন।
কখনো বা সমুদ্রবিলাস, কখনো চন্দ্র বিলাস বা কখনো বৃষ্টি বিলাশ কোন কিছুই বাদ রাখেনি এই টগবগে যবুক। এবার একটু তার ভ্রমণের ভিন্ন স্বাদ, চ্যালেঞ্জ ও স্বপ্ন জাগে টেকনাফ টু তেঁতুলিয়া ভ্রমণের। বিশাল এই দূরত্বে বাঁধন ও সাদ্দামের জন্য ছিলো আরও বাড়তি কষ্টের। চাঁদপুর জেলা শহর থেকে মূলত তাদের সফর শুরু হওয়ায় তাদেরকে ঘুরতে হয়েছে প্রায় ২ হাজার ১৫ কিলোমিটার। তারা গত পহেলা এপ্রিল ভোর ৪টায় টেকনাফের উদ্দেশ্য চাঁদপুর থেকে রওনা দিয়ে কক্সবাজারে গিয়ে পৌছায় সকাল ১১টায়।

সেখানে তাদের ঘুরাঘুরি শেষে দুপুর ২টায় টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে টেকনাফ গিয়ে পৌঁছায় বিকাল ৪টায়। এর মধ্যে ছিল দুই বন্ধুর চা বিরতি। সেখানে রাত্রি যাপন করে পরদিন ২ এপ্রিল স্বপ্নের তেঁতুলিয়ার উদ্দেশ্যে ভোর সাড়ে ৬টায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেন। চট্টগ্রাম এসে চা ব্রেক দিয়ে পরবর্তীতে আবার কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে নামাজের বিরতি দেন তারা।
নামাজ শেষ করে রওনা দিয়ে গাজীপুরে দুপুরের খাবার খেয়ে তেঁতুলিয়ায় পৌছায় ২ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টায়। টোটাল এই সময়ের মধ্যে পাঁচ ঘন্টা ছিল তাদের খাবার, নামাজ ও মোটরসাইকেল ত্রুটির ব্যবহৃত সময়। ব্যাংকার বন্ধু সাদ্দামকে নিয়ে নাজমুল হাসান বাঁধন সেখানে পুরো একদিন সময় অতিবাহিত করে ৪ এপ্রিল ভোর ৬টায় নিজ জেলা চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ২০১৭ সালের প্রথম দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা চাঁদপুর রাইডারস (সিআরজি) এর এডমিন নাজমুল হাসান বাঁধন বলেন, বাইকারদের জন্য টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং বাইক ট্যুর হয়।
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া বাইক ট্যুরে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি। তাছাড়া বাইক দিয়ে গেলে বিভিন্ন জায়গায় নিজ ইচ্ছামতো বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন সৌন্দর্যময় জায়গা গুলো উপভোগ করা যায় এবং দাঁড়িয়ে ছবিও তোলা যায়। যা কিনা অন্যান্য যানবাহনে গেলে অল্প সময়ে তার অর্জন করা যায়না। তবে বাইক ট্যুরের মাধ্যমে ভারত যাওয়া এখন আমার মূল স্বপ্ন।
এই ভিন্ন স্বাদের ভ্রমণ নিয়ে চাঁদপুর রাইডারস এর আরেক সদস্য সাদ্দাম হোসেন জানান, মানুষের বড় হওয়ার নেশা থাকে, টাকার নেশা বা বিভিন্ন নেশা থাকে আমার বরাবরের মতই ভ্রমণের নেশা। আমার কোন উচ্চ আশা নেই, নেই বদ অভ্যাশ, আছে তীব্র ভ্রমণের নেশা। যখনই সুযোগ পেয়েছি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি।
এবার একটু মনে হলো চ্যালেঞ্জিং ও অসাধ্য একটানা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ঘুরে দেখবো। সৃষ্টিকর্তার রহমতে আমরা তা সক্ষম হয়েছি। অন্যদের উদ্দেশ্য আমি বলবো, চির সবুজের বাংলাদেশ রুপে, গুনে ও সৌন্দর্যে অতুলনীয়। যারা দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে যান, আপনারা প্রথমে দেশের ভেতর ভ্রমণ করুন তাহলেই জানতে ও বুঝতে পারবেন, চিনতে পারবেন সবুজের সমারহে আবৃত্ত আমাদের এই সুজলা সুফলা বাংলাদেশকে।
সমাজকর্মী ও ফিচার লেখক
চাঁদপুর সদর।

মাসুদ হোসেন