কুইজ প্রতিযোগীতা, কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে হাজীগঞ্জে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস পালতি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা যুব রেড ক্রিসেট ইউনিট এ দিবসটি পালন করে।
“মানবতার পাশে একসাথে”-এ প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ মে) বিকেল ৪টায় উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান ও রেড ক্রিসেন্টের উপদেষ্টা নিশান রহমান এবং হাজীগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও হাজীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিফাত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট দলনেতা মোঃ ইয়াসিন আরাফাত।
কুইজ প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকরা অংশগ্রহণ করেন। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন একটি আন্তর্জাতিক মানবিক আন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ, দুর্যোগ ও সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তারা আরও বলেন, যুব সমাজের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতা তৈরি ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ১৮২৮ সালের ৮ই মে থেকে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা জীন হেনরী ডুনান্টের জন্মদিন উপলক্ষে সারা বিশ্বে এই দিনটি ‘রেড ক্রস- রেড ক্রিসেন্ট’ দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। পৃথিবীকে আরও সংরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে অপ্রতিরোধ্য হিসেবে কাজ করে যেতে চায় সংগঠনটি।
রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট এর প্রতিষ্ঠাতা জ্বীন হেনরী ডুনান্টের জন্ম হয়েছিল ১৮২৮ সালের ৮ই মে। ১৯১০ সালে তার মৃত্যুর পর হতে সারা বিশ্বে ৮মে তার জন্মদিনকে সম্মান দেখিয়ে ‘বিশ্ব রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবক, মানব হিতৈষী ও শ্রেষ্ঠ মানব। তার শ্রেষ্ঠ কর্মের জন্য তিনি পেয়েছিলেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল মানুষকে এক পতাকাতলে একই কর্মসূচীতে একত্রিত করেছিলেন।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ ১৫টি বিদ্যালয় নিয়ে জুনিয়র রেড ক্রস কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ১৯৭৮ সালে যুব রেড ক্রস শাখা গঠন করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে শিক্ষায়তন বর্হিভূত যুব রেড ক্রস দল গঠন করা হয়। যা বর্তমানে যুব রেড ক্রিসেন্ট নামে অভিহিত।
বাংলাদেশের প্রতিটি প্রশাসনিক জেলায় ৬৪টি ও ৪টি সিটি করপোরেশনে ৪টি সর্বমোট ৬৮টি ইউনিট রয়েছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সারাদেশব্যাপী নানাবিধ জনসেবা ও কল্যাণ মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। মানবতার কল্যণে বাংলাদেশে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি স্বাভাবিক সময়ে ও প্রতিটি দুর্যোগে ৬৮টি ইউনিট এর স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বিপন্ন মানবতার কল্যাণে গণ মানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত।

সাতটি মূলনীতি নিয়ে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে। মূলনীতি গুলো হল, মানবতা, পক্ষপাতহীনতা, নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা, স্বেচ্ছামূলক সেবা, একতা, সার্বজনীনতা। স্কুল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র ছাত্রী বা যুব শ্রেণীর প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সোসাইটির যুব রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সোসাইটির অধিকাংশ কার্যক্রম স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রশিক্ষিত যুব স্বেচ্ছাসেবকগণই প্রতিটি দুর্যোগে গণমানুষের সেবায় আন্তরিক ও নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে।

নিজস্ব প্রতিনিধি