চাঁদপুর সদর উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়নে স্ত্রী ও তার শশুরকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে চাঁদপুর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী রায়হান খান, তার পিতা আব্দুর রাজ্জাক খান এবং শাশুড়ী কামরুন নাহারকে আসামী করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন গৃহবধূ তামান্না মজুমদার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আশিকাটি ইউনিয়নের উত্তর রালদিয়া খান বাড়ির রাজ্জাক খানের ছেলে রায়হান খানের সাথে ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় হাজীগঞ্জ উপজেলার বেতিয়াপাড়া মজুমদার বাড়ির জয়নাল আবেদীনের মেয়ে তামান্না মজুমদারের। তাদের সংসারে ৫ ও ২ বছরের দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময় খুটিনাটি বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সেসব বিষয় নিয়ে প্রায় সময় স্ত্রী তামান্না উপর শারীরিক নির্যাতন চালাতো স্বামী রায়হন খান। তার এই নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে তামান্না সহ বাবার পরিবারের লোকজন। স্বামী কর্তৃক ডিভোর্স দেয়ার হুমকি দিয়ে মারধরের পরও তামান্না তাদের দুই অবুঝ সন্তানের কথা চিন্তা করে ধৈর্য্য ধারন করে সংসার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু গত রোববার (১১ মে) দুপুর ২টার দিকে পূর্বের ন্যায় বিভিন্ন অজুহাতে গৃহবধূ তামান্নার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায় রায়হান। পরে তামান্না তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দিলে এদিন রাত সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ এবং মেয়ের বাবা ঘটনাস্থলে গেলে রায়হান পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ছেলের মায়ের আশ্বাসে পুলিশ চলে যান। পরে রায়হান খান মেয়ের বাবা জয়নাল আবেদীনের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে রায়হান উত্তেজিত হয়ে শশুরের মাথায় আঘাত করেন। এসময় তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে জয়নাল আবেদীনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার নাক ও ঠোটে ২১ টি সেলায় দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন। এদিকে বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে মেয়ে তামান্না এগিয়ে গেলে তার শশুর আব্দুর রাজ্জাক খান ও শাশুড়ী কামরুন নাহারও কিলঘুষি, লাথি মারেন। এবং তার শশুর তাকে টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহনিরও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় এদিন রাতেই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা রুজু করেন। ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা নং- ২৯।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ তামান্না মজুমদার বলেন, আমার স্বামী প্রায় সময় আমার উপর শারীরিক ও মানষিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। সেই সাথে আমার শশুরও তার ছেলের সাথে তাল মিলিয়ে তিনিও অত্যাচার করেছেন। দুই সন্তানের কথা চিন্তা করে আমি তারপরও চেয়েছি সবকিছু মেনে নিতে। ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে রবিবার দুপুরে আমাকে বেদম মারধর করেন।
মারধরের বিভিন্ন সময় বলেন, আমাদের বাড়ি থেকে তাকে কি দিয়েছে। এমনকি আমার সাথে অল্প কয়েকদিন সংসার করে তালাক দিয়ে দেয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন প্রায় সময়।
তামান্না মজুমদারের ভাই তানজিল মজুমদার বলেন, আমার বোনের উপর তারা অনেক অত্যাচার করেছে। তারপরও আমরা চেয়েছি তাদের সংসারটা না ভাঙ্গুক। কিন্তু এদিন আমার ভগ্নিপতি রায়হানের করা অমানবিক আচরণের মাত্রাটা বেড়ে গিয়েছিল। আমার বাবাকে সে মারাত্মক জখম করেছে, তিনি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসামী রায়হান খানের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও সংযোগ না পাওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাহার মিয়া সোমবার রাতে প্রিয় চাঁদপুরকে জানান, তামান্না মজুমদারের দায়ের করা মামলায় কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘরে তালাবদ্ধ রেখে সবাই পালিয়েছে। তবে আসামীদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি