প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫ । ৭:৩৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ভেসে উঠছে মরা মাছ

মনিরুল ইসলাম মনির
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ভেসে উঠছে মরা মাছ।
শুক্রবার (১৬ মে) ভোর থেকে  মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে দশানি পর্যন্ত মেঘনা পাড়ের বিভিন্ন স্থানে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এলাকাবাসী বলছেন, বিষাক্ত বর্জ্য ও কেমিক্যালের কারণে পানি দূষিত হওয়ায় মরে ভেসে উঠছে দেশীয় মাছ।
বিশেষ করে জাটকা, চেউয়া, বাইলা, টেংরা, পুঁটি, চাপিলাসহ অসংখ্য ছোট-বড় দেশীয় মাছ।
প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোরে মাছ ধরতে নদীতে নামেন স্থানীয় জেলেরা। তখনই তারা দেখতে পান পানিতে ভেসে রয়েছে অসংখ্য মরা মাছ।
 কি কারণে বার বার নদীতে মাছ মারা যাচ্ছে এবং পানিদূষণ হচ্ছে, তার সমাধান চান এলাকাবাসী।
 এদিকে পচা মাছের দুর্গন্ধে নদীপাড়ের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দূষিত হওয়ার কারণে এখন নদীর পানি ব্যবহারও করতে পারছে না স্থানীয়রা।
 এভাবে ছোট আকারের জাটকা মারা পড়লে সামনে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাবে কি না, দুশ্চিন্তায় জেলেরা।
ষাটনলের  জেলে ফুলচান বর্মন  বলেন, এখন এই পানিতে মাছ তো নেই, বরং বিষ ছড়িয়ে আছে। কয়েক বছর ধরেই এমন হচ্ছে। কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মাছশূন্য হয়ে যাবে নদী।
স্থানীয় জেলে ইমাম হোসেন বলেন নদীতে বাচ্চারা খেলতে যায়। গোসল করে।  আমরা নদীর পানি সব সময় ব্যবহার করি কিন্তু এখন পারছি না।
এখলাসপুরের মাছ ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বলেন, আজকে যা দেখলাম, তাতে আগামী কয়েক মাস নদী থেকে মাছ পাওয়া কঠিন হবে। বাজারে মাছের দাম বেড়ে যাবে, মানুষ কষ্ট পাবে।
ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আক্কাস আলী মোল্লা বলেন, মাছ মরার ঘটনা শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, মানুষের জীবিকার উপরও আঘাত। বারবার অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নদী বাঁচলে আমরা বাঁচব, এটাই এখন সবার মূল দাবি ও উপলব্ধি হওয়া উচিত।
মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, এটি একটি জলজ পরিবেশগত দুর্যোগ। শীতলক্ষ্যা থেকে আসা দূষিত পানির প্রবাহ একাধিকবার এই এলাকায় বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এটি প্রথম নয়, একাধিকবার ঘটেছে এমন ঘটনা ।
২০২৩ সালের মার্চ ও ২০২৪ সালের আগস্ট মাসেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তখনও মেঘনার পানি দূষিত হয়ে মাছের গণমৃত্যু হয়। তবে এবার পরিমাণ আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন