প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫ । ৭:৫৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর চরভৈরবী চরে খুচি জাল ও চরঘেরা জালে বিপন্ন দেশি মাছ

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী মেঘনা নদীর ওপার জেগে ওঠা বিভিন্ন চরে জোয়ার ভাটা সময় খুঁচি জাল, চরঘেড়া জাল, নেট জাল দিয়ে মাছের বংশ নির্বংশ করছে অসাধু জেলেরা।

একটি জালের বিভিন্ন নামে ব্যবহার করে প্রকাশ্য দিবালোকে চরভৈরবী এলাকার চর কোড়ালিয়া চরহাই ,চরপঙ্খী দিয়া ,চর ভৈরবী নতুনচর ও হাইমচরে এ সকল জালগুলো ভাটার সময় তীরে বাঁশ অথবা লাঠি দিয়ে বালু মাটিতে শক্তভাবে বেড়া দেওয়ার মতো গুপে রেখে আসে। জোয়ার আসলেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মাছের রেনু ও ডিম স্রোতের সাথে জালের ভিতরের চলে আসে। ভাটার সময় মাছ ও রেনুপোনা পানি শুকিয়ে গেলে বাইরে যেতে না পারায় আটকে পড়ে। এ সময় অসাধু জেলেরা সেসকল ছোট ছোট মাছগুলো ধরে চর ভৈরবী মৎস্য আড়ৎ এনে বিক্রি করে।

এ সময় দেখা যায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেনুপনা ও ডিমগুলো চরের বালুতে আটকে পড়ে মাছের বংশ নির্বংশ হয়ে যায়।

স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, ভয়ংকর জাল যার নাম দেওয়া হয়েছে খুঁচি জাল, চরগেড়া জাল, নেট জাল এগুলো ব্যবহার করে অসাধু জেলেরা প্রতিদিন চরে ছোট ছোট মাছগুলো ধরে ফেলছে। আর সেই মাছগুলো চর ভৈরবী মৎস্য আড়ৎ এর দরবার ফিস ট্রেডার্স, সৈয়দ চৌকিদার, সুলতান মাঝি, মমিন দালাল, ফারুক হাওলাদার, সুমন বেপারী,নজরুল ইসলাম ফকির, সাগর গাইন এর কাছে বিক্রি করছে জেলেরা।

এ সকল অসাধু জেলেদের নেতৃত্ব দিচ্ছে সৈয়দ চৌকিদার। এছাড়া অন্যান্য মৎস্য ব্যবসায়ীরা জেলেদের নেট জাল কিনার জন্য টাকা দাদন দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে হাইমচর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার ও নৌ পুলিশের সাথে সমন্বয় করে জেলেরা চর গুলোতে নেট জাল দিয়ে মাছ ধরছে প্রকাশ্যে।

এছাড়া চর ভৈরবী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও তাদের নাকের ডগায় জেলেরা মরণ ফাঁদ নেট জাল দিয়ে মাছ ধরে আভৎ গুলোতে বিক্রি করছে। নৌ পুলিশের অসাধু কর্মকর্তারা এসকল জেলে ও মৎস্য মৎস্য আড়ৎদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে মাছ ধরা ও বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে।

মূলত প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই এভাবে মাছ ধরে মাছের বংশ নির্বংশ করছে জেলেরা।

এই বিষয়ে হাইমচর উপজেলা সরকারি মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম আশরাফুল ইসলাম জানায়, চর ভৈরবী ও হাইমচরে জেগে উঠা চরগুলোতে খুঁচি জাল, চরগেড়া জাল, নেট জাল ব্যবহার করে মাছ নিধন করার তথ্য মিলেছে। জাটকা রক্ষায় দুই মাসের অভিযানের সময় কোস্টগার্ড সাথে নিয়ে চরাঞ্চলে অভিযান চালানো হয়। তবে নৌযান সংকটের কারণে এখন অভিযান ওইভাবে করা হয়নি। এই বিষয়ে কোস্ট গার্ডের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানায়, চরগেরা জালে দেশীয় প্রজাতির মাছ সহ সব ধ্বংস হয়ে যায়। এই জলে নেট সাইজ এতই ছোট পোকামাকড় থেকে শুরু করে সব মাছএই জালে ধরা পড়ে। যে কারণে মেঘনা নদীতে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই জালের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার রয়েছি। খুঁচি জাল, চরগোড়া জাল, নেট জাল দিয়ে মাছ নিধন করছে এসকল জালের বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন