আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হওয়ার পরই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বুধবার যুক্তরাজ্যের চ্যাথাম হাউস আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। লন্ডনে চার দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগের কেউ এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। যারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার চলছে। জনগণের নিরাপত্তা বিবেচনায় দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে গত ১৭ বছরে সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং অগ্রাধিকার।”
চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ড. ইউনূস জানান, “জুলাই সনদ চূড়ান্ত করতে আমরা সব রাজনৈতিক দলের মতামত নিচ্ছি। একমাত্র ঐকমত্যই হতে পারে ভবিষ্যতের ভিত্তি।”
সভায় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর আমি আর কোনো সরকারে থাকবো না। আমাদের কাজ সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা এবং জনগণকে সন্তুষ্ট করা।”
নতুন বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কার কমিশন গঠন করেছি, যা প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করছে। কমিশনের সুপারিশই ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।”
সরকারি সেবা নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আগে সরকারি সেবায় ‘মাধ্যম’ প্রয়োজন হতো, যা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করত। এখন এসব সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণ সরাসরি সুবিধা পায়।”
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, “সাত বছর আগে শিশু হিসেবে যারা এসেছিল, তারা এখন যুবক। মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের খরচ বহন নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।”
উল্লেখ্য, ড. ইউনূস ৯ জুন চার দিনের সফরে লন্ডন যান। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম ইউরোপ সফর। আগামী ১৪ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক