চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন পৌরসভার সরকারি খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কার কার্যক্রমের ৫০ তমদিনেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অব্যাহত রেখেছেন।
শনিবার( ১৪- জুন) দুপুরে চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি পৌরসভার সুয়াপাড়া, কালিয়াপাড়া ও করবা এলাকা দিয়ে প্রবাহমান বানিয়াচৌঁ খালের জলাবদ্ধতা নিরসনে ও নিরবিচ্ছিন্ন পানি প্রভাব নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
ওই সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌর প্রশাসক নিগার সুলতানা নেতৃত্বে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটি ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন এ অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে কালিয়াপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর সুপার মার্কেটের একটি সৌরকাভার্ট অপসারণ করে সেখানে ম্যানহোল, পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন স্থানে পৌরসভা কর্তৃক ম্যানহোল স্থাপন, একই সঙ্গে দোয়াভাঙ্গা শাহরাস্তি গেইট এলাকায় টং দোকানের স্থাপনা এবং ভরাটকৃত ভূমি গুড়িয়ে দিয়ে খাল পুনরুদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার ৩ নং ওয়ার্ডের বানিয়াঁচৌ মহল্লার এই খালটি দিয়ে ৪টি মহল্লার বানিয়াঁচৌ, ঘুঘুরশাল, শুয়াপাড়া, সাহাপুর এলাকার বর্ষার পানি ডাকাতিয়া নদীতে গিয়ে পড়ে থাকে।
১৯৯৮ সালে পৌরসভা গঠনের পর থেকে প্রবাহমান এ খালের বিভিন্ন অংশ দখলদাররা কৃত্রিম বাধ দিয়ে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল।

এতে ওই ৪ টি মৌজার শত শত একর আবাদি জমিনের ফসলআদি বিনষ্ট হত। সম্প্রতি ওই পুঞ্জিভূত সমস্যা নিয়ে স্থানীয়রা শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানার নিকট একটি অভিযোগ নিয়ে এলে তিনি এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ওই হিসেবে অন্তত ৩ কিঃ মিঃ খাল খননের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেন যা চলমান রয়েছে।
এছাড়া অত্র পৌরসভায় গত ৫০ দিনে ছোট বড় বেশ কয়েকটি খাল ও অসংখ্য ড্রেন ও পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,১৯৯৮ সালের ১৪ই অক্টোবর শাহরাস্তি পৌরসভাটির গঠনের সময় এর জনসংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৬শ’৫০ জন। বর্তমানে ওই জনসংখ্যা বেড়ে ৪৭ হাজার ৭’শ ৪০ জনে পৌঁছেছে।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নগরায়ন ও জনবসতি। কিন্ত বিগতদিনে পৌর বাসির সুযোগ-সুবিধা সে ভাবে বাড়েনি। বরং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে পৌরসভার ছোট বড় ১৭ টি খাল অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এতে জলপ্রবাহে তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা। এরই মধ্যে নতুন যুগের দুষন পলিথিন বর্জে সয়লাব হয়ে যায় নালা ও খাল বিল।
সঙ্গত কারনে অল্পতেই পৌর শহরের ভিটেবাড়ি প্লাবিত হয়ে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (প্রথম শ্রেণি) মোঃ তোফায়েল আহমেদ শেখ জানান, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক নিগার সুলতানা বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যার অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ সংস্কারের ফলে হারিয়ে যাওয়া খালটির ৩ কিঃমিঃ এলাকায় জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার ও দৃশ্যমান হবে।
আসন্ন বর্ষায় পৌরবাসীসহ খালের দুপাশে বসবাসকারী জনগণ এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
শাহরাস্তি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিগার সুলতানা জানান,ইতিমধ্যে বানিয়াচৌ, কালিয়াপাড়া,দোয়াভাঙ্গা মেহের স্টেশন পর্যন্ত খালটির সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ওই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নিরবিচ্ছন্ন পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পৌরবাসীকে তাকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এদিকে ওই সংস্কার কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন, শাহরাস্তি পৌরসভার প্রধান সহকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।

মোঃ মাসুদ রানা