শাহরাস্তিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ বিষয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭-জুন. ২৫) শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদমিলনআয়তনে উপজেলা প্রশাসন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা এটি অনুষ্ঠিত হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নিগার সুলতানার সভাপতিত্বে কর্মশালা সম্পন্ন হয়।
তিনি বক্তব্য বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। এ কারণে দেশে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। পঙ্গুত্ববরণ করে বছরে আরও প্রায় ৪ লাখ মানুষ। তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির (চিকিৎসা ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হারানো) পরিমাণ বছরে ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।
দেশের জনগোষ্ঠীর ৪৮ শতাংশই তরুণ-তরুণী। তামাক কোম্পানির মূল টার্গেট কীভাবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে তামাকে আসক্ত করে ব্যবসা বাড়ানো যায়। তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু এবং অসুস্থতা এসডিজির তৃতীয় লক্ষ্যমাত্রা- সুস্বাস্থ্য অর্জনের একটি বড় বাধা। তামাক ও নিকোটিন পণ্যমুক্ত একটি সুস্থ, সুখী ও উদ্যমী প্রজন্ম গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘আনমাস্কিং দি অ্যাপিল: এক্সপোজিং ইন্ডাস্ট্রি ট্যাকটিকস অন টোব্যাকো অ্যান্ড নিকোটিন প্রোডাক্টস’। বাংলাদেশে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে ‘তামাক কোম্পানির কূটকৌশল উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ এই শিরোনামে।
ওই কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, শাহরাস্তি স্বাস্থ্য পঃপঃ কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডাঃ আকলিমা জাহানের পক্ষে ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, তামাকের অতিমাত্রায় ব্যবহার মানব দেহসহ সমাজে কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে তা জানান দিতে আজকের আলোচনা।
মুলতঃ তামাক হৃৎপিণ্ড, লিভার ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ধূমপানের ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD) (এমফাইসিমা ও ক্রনিক ব্রংকাইটিস সহ), ও ক্যান্সার (বিশেষত ফুসফুসের ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার, ল্যারিংস ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার) এর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।
একপর্যায়ে প্রাণহানি নিশ্চিত হয়ে যায়। এ বিষয়ে কমিটির সদস্য ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের করণীয়, আইনের প্রয়োগ ও তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকরে ব্যাপক আলোকপাত করা হয়। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের এ বিষয়ে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার উপর গুরুত্বআরোপ করেন। একপর্যায়ে প্রশিক্ষক বলেন, সরকার দেশি ও বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে এ মাদক প্রোডাক্ট বিক্রি থেকে সরে এসে অন্য খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছেন। তারপরও শুধু ২০২৩ /২৪ সালে তামাক, সাদা জর্দা, গুল সেবন করে মরণব্যাধি ক্যান্সারের মৃত্যুর মিছিলে লক্ষ লক্ষ লোক যুক্ত হয়েছে।
মানব দেহের রক্ষাকারী অতি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ঔষধের অতিরিক্ত ব্যবহার বেড়ে গেছে।
যার বড় কাস্টমার হচ্ছে মাদক ও তামাক সেবীরা। একই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, ২০২৩ সালে শুধু যত্রতত্র সিগারেট ফেলায় ৪৯০৬ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ওই কর্মশালায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনি,শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী, কমিটি সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ মাসুদ রানা