চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ স্বপন সাহার বসতঘর থেকে ২০ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে স্থানীয় জনতা। ঘটনাটি উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় স্বপন সাহাকে আটক করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত চালগুলো দুঃস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি (ডেস্টিটিউট উইমেন ফুড প্রোগ্রাম) কর্মসূচির বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ চাল বিতরণে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ হাজীগঞ্জ উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে গত চার দিন ধরেই উঠছিল।
এ ঘটনায় আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা আনজুমান ভানুর ভূমিকা। স্থানীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের অভিযোগ— অভিযোগগুলো তাকে একাধিকবার জানানো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হলেও তিনি কোনো তথ্য দেননি। বরং কখনও ইউএনওর নির্দেশনার কথা বলে, আবার কখনও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের ওপর দায় চাপিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
আজকের চাল উদ্ধারের ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে— ভিজিডি চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি আগে থেকেই প্রশাসনের জানা ছিল। অথচ তৎকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অনিয়মের তথ্য জানতেন কি না, আর জেনেও কেন তা গোপন করলেন?
সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, এই কর্মকর্তার তথ্য গোপন ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ তথ্য প্রকাশ হলে তার নিজের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ পেত।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারি তথ্য গোপনের অভিযোগে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি