আধুনিকতার এই যুগে যখন আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপর মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তখন কিছু মানুষ আছেন যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তেমনই একজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবক মানবিক যোদ্ধা চাঁদপুরের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ। যিনি এ পর্যন্ত সাত জন অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষ রোগীকে সেবা দিয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তার এই মানবিক অভিযাত্রা শুরু হয় এক ৬০ বছর বয়সী নারীর সেবা দানের মাধ্যমে। যিনি হাত ভেঙে হাসপাতালে এসে পৌঁছান কিন্তু তার কোনো আত্মীয়স্বজন ছিল না পাশে। কেউ ছিল না ওষুধ কিনে দেওয়ার জন্য, স্যালাইন ধরার জন্য, খাবার দেওয়ার জন্য। ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন সাজ্জাদ নামের এই ছেলেটি।
সাজ্জাদ তার পকেট খরচ থেকে নিজ হাতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, পাশে থেকে সাহস দেন অসহায় এ মানুষগুলোকে। চিকিৎসার পাশাপাশি খাবার, ওষুধ ও সবরকম যত্ন নিচ্ছেন যেন এই মানুষটি শেষ বয়সে মানবতার উষ্ণতা পান।
ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এ শিক্ষার্থী সাজ্জাদ বলেন, “অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার কর্তব্য। আর এই মানুষগুলো কারও না হলেও, আমি বিশ্বাস করি তারা আমার সৃষ্টিকতার সৃষ্টি। সেই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবাহানুর ভালোবাসা হতে আমি এসব কাজ করি।
আগামীতে আরো বড় পরিসরে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে চাই।” তিনি কারও সহযোগিতা ছাড়াই নিজ উদ্যোগে কাজ করে যাচ্ছেন। সমাজের বিত্তবান, সহানুভূতিশীল ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গের প্রতি তার আহ্বান “আসুন, এসব অচেনা মুখগুলোর পাশে আমরা সকলে দাঁড়াই। দিনশেষে ওরা আমাদের-ই কারো না কারো সন্তান, কারও স্ত্রী আবার কারও মা বাবা।

মাসুদ হোসেন