শাহরাস্তিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন, শাহরাস্তি উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
“জুলাই বিপ্লবের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই” এই প্রতিবাদী শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মানববন্ধনস্থল। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক হলেও সরকারিভাবে আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষায় শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে কিন্ডারগার্টেনের লাখো শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন, শাহরাস্তি উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আলী আজগর মিয়াজী।
তিনি বলেন, “সরকারি-বেসরকারি বলে কোনো ভেদাভেদ থাকতে পারে না। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না। এটা চরম অবিচার ও সংবিধান পরিপন্থী।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা সবার অধিকার। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার বাইরে রয়েছে, যা খুবই হতাশাজনক। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বৈষম্যের বীজ বপন করছে।”
মানববন্ধনে শাহরাস্তি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ও সমিতির সহ-সভাপতি মো. হাসান আহমেদ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, আল হেরা একাডেমীর অধ্যক্ষ ও সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, আল-আমিন একাডেমির মো. ইসলাম, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ মো. ওসমান গনি, বিদ্যানিকেতনের উপদেষ্টা মো. আবদুর রব, মাতৃছায়া কিন্ডারগার্টেনের সাধারণ সম্পাদক ছোটন চক্রবর্তী, ইমামে আজম কিন্ডারগার্টেনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের সুমন ও আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের মো. জামাল হোসেন।
মানববন্ধন শেষে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে আহত ও নিহতদের স্মরণে এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য হিতে বিপরীত হবে।”

মোঃ মাসুদ রানা