চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দোয়াগোন্ডায় পারিবারিক কলহের জেরে নিঃসন্তান এক দম্পতির উপর হামলা ও ঘরের দরজায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে বড় ভাসুর আলী আশরাফের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ঐ দম্পতি উপজেলার ৬ নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের দোয়াগোন্ডা লদের বাড়ির।
জানা যায়- দীর্ঘদিন যাবত নূরে আলম প্রবাসে থাকার সুবাদে তাদের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী কুলসুম বেগমের সাথে তার বড় ভাসুর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আলী আশরাফের বিরোধী আলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের কোনো সন্তান না থাকায় দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বড় ভাসুরের ছেলে কাইয়ুমকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। গত ৮ মাস আগে পারিবারিক কলহের কারনে কাইয়ুম সেচ্ছায় তার পরিবারের কাছে ফিরে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ জুলাই(শুক্রবার) বিকেলে বাড়ির উঠানে কাইয়ুমের সন্তানকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে কুলসুম বেগম তাকে ডাক দিলে বড় ভাসুর আলী আশরাফ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে আশরাফ আলী কুলসুম বেগমের ঘরের দরজায় ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকলে ইটের একটি টুকরো এসে কুলসুম বেগমের মাথায় লাগে। এরপর নিজের আত্নরক্ষায় ভুক্তভোগী কুলসুমা বেগম ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখেন।
ভুক্তভোগী কুলসুম বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার কোনো সন্তান না থাকায় আমাদের সম্পত্তির উপর নজর পড়েছে আশরাফ আলীর। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। এমনকি আমার স্বামী দেশে এলে তাকেও মারধর করেছে সে।”
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলী আশরাফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “রাগের মাথায় দরজায় ইট ছুড়েছি, এটা আমার ভুল হয়েছে। এমনটা করা উচিত হয়নি।”
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মইনুদ্দিন ফারুক বলেন, “অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত আলী আশরাফের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিঃসন্তান দম্পতি ও তাদের পরিবার।

নিজস্ব প্রতিনিধি