চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতায় অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র শাহরাস্তি পৌরসভার প্রসিদ্ধ ঠাকুর বাজার এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিরুপম মজুমদার। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত এই অভিযানে মেহের খোদা খালের ওপর অবস্থিত দুটি স্থায়ী ভবন যেখানে বহুল পরিচিত “আমানিয়া হোটেল” দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল পুরোপুরি উচ্ছেদ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়কালে তৎকালীন পৌর মেয়রের ছত্রছায়ায় খালের জায়গা দখল করে হোটেলটি নির্মাণ করা হয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি জলাধারের ওপর দোতলা ভবন নির্মাণ করে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার কারণে একদিকে যেমন জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল, অন্যদিকে শহরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিও দিন দিন প্রকট হচ্ছিল।
নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর ৫ আগস্ট থেকে একাধিকবার হোটেল কর্তৃপক্ষকে লিখিত নোটিশ, মাইকিং ও মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হয়। তবে তারা কোনো নির্দেশনা না মেনে দখল বজায় রাখে। এরই প্রেক্ষিতে আজকের এই চূড়ান্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে এসিল্যান্ড নিরুপম মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন- “সরকারি খাল রক্ষা ও জনস্বার্থে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার সব ধাপ অনুসরণ করে অবৈধ দখলদারদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নির্দেশ অমান্য করায় বাধ্য হয়েই আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, শুধু হোটেলই নয়, খালের আশেপাশে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“সরকারি খাল, রাস্তা কিংবা যেকোনো খাসজমি দখলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।” — বলেন সহকারী কমিশনার।
এদিকে ঠাকুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী, পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে “সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন।
তারা জানান, “স্রোতধারা বন্ধ করে দিয়ে এভাবে খালের ওপর ব্যবসা পরিচালনা পুরো শহরের পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছিল।”
স্থানীয় উন্নয়ন কর্মীরা বলেন, “শুধু উচ্ছেদ নয়, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং সিস্টেমেটিক ড্রেনেজ প্ল্যান ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।”
এ অভিযানের সময় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল এবং বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন। উচ্ছেদের সময় কোনো প্রকার সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

রাফিউ হাসান হামজা