শাহরাস্তি পৌর শহরের মেহের গোদা খালের দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (৬ আগস্ট) দিনব্যাপী চলা এ অভিযানে ঠাকুর বাজার ও সাহেববাজার সড়কের খালপাড়ে গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদকৃত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে আমানিয়া হোটেলের বর্ধিত অংশ ও আমীর হোসেন গাজীর মালিকানাধীন আরও একটি একতলা ভবনসহ ছোট কয়েকটি টং দোকান।
জানা যায়, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিগার সুলতানার তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে উপজেলা ভূমি অফিস, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। পুরো অভিযানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুর বাজারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মেহের গোদা খালের দুই পাড় দখল করে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে আসছিলো স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।
গত বছর জাতীয় গণমাধ্যমে ‘অস্তিত্ব হারাতে বসেছে মেহের গোদা খাল’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসন তৎপর হয়। এরপর একাধিকবার অবৈধ দখলদারদের নোটিশ ও মাইকিং করা হলেও তারাসময়ক্ষেপণ করে স্থাপনা না সরানোর অভিযোগ উঠে।
বুধবারের অভিযানে আনোয়ার হোসেন লিটনের মালিকানাধীন ‘আমানিয়া হোটেল’-এর দ্বিতল ভবনের বর্ধিত অংশ এবং আমীর হোসেন গাজীর একটি একতলা ভবন উচ্ছেদ করা হয়। এতে খালের কিছু অংশে পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিরুপম মজুমদার বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি। খাল সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনসহ পরিবেশ রক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, এর পূর্বে চলতি বছরের ২৪ শে মার্চ ১ মাস ধরে শাহরাস্তি অংশে বহমান মেহেরগোদা ১০ কিঃমিঃ খালের ২ কিঃ মিঃ এলাকার ময়লা-আবর্জনা-পলিথিন (বর্জ) অপসারন সংস্কার কাজ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন ইউএনও নিগার সুলতানা। ওই কাজ তিনি প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করেন।
এতে বিশাল আকৃতির ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হয়।তারেই ধারাবাহিকতায় অবশিষ্ট কাজ আজ প্রথম ধাপ সম্পন্ন হল।

অনলাইন ডেস্ক