প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫ । ৯:৪২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বরগুনার ছেলে চাঁদপুরে ডিপকল স্থাপন করতে এসে আত্মহত্যা

মাসুদ হোসেন
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের গভীর নলকূপ বসানোর হেলপার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতের যেকোন সময়ে মোম্তাকিন (১৬) নামে এক যুবক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ৪ দিন আগে ইউনিয়নের ভাটেরগাঁও এলাকায় নাসির পাটওয়ারীর নির্মাণাধীন ভবনে গভীর নলকূপ স্থাপন করতে ঠিকাদার আবু সালেহ মোল্লা চুক্তিভিত্তিক একদল শ্রমিক নিয়ে আসেন। নিহত মোস্তাকিন বরগুনা জেলার তালতলি উপজেলার আলতলী কলারং গ্রামের মৃত মিরাজ আলীর ছেলে।
মোস্তাকিন ৮ দিন হলো একই উপজেলার মৃত কাদের মোল্লার ছেলে আবু সালেহ মোল্লার সাথে এই টিমে কাজে যোগদান করেন।
ঘটনার দিন রাতে সে নাইট ডিউটিতে ছিল, ডিউটিরত অবস্থায় কাউকে না জানিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে আবু সালেহ জানান।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ভোরে এক মুসল্লী ফজর নামাজ পড়ে ফেরার সময় নির্মাণাধীন ভবনের পিলারের সাথে রশিতে মোস্তাকিনকে ঝুলতে দেখে ঠিকাদার আবু সালেহ মোল্লাকে খবর দেয়। তিনি ও তার সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মোস্তাকিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে বাড়ির মালিক নাসিরসহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজিকে বিষয়টি অবগত করেন। কামাল মিজি তাৎক্ষণিক চাঁদপুর সদর মডেল থানাকে বিষয়টি অবগত করলে থানার এসআই স্বপন ঘটনাস্থলে আসেন।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল মিজি জানান, ডিপকল বসানোর হেলপার আত্মহত্যা করার বিষয়টি যখন আমি জানতে পেরেছি, সাথে সাথেই চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি সাহেবকে বিষয়টি অবগত করি। সেই সাথে আমার সহযোদ্ধা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ এবং পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কুদ্দুছ আখন্দ রোকনকেও ঘটনাটি জানাই।
এ বিষয়ে বাড়ির মালিক নাসির পাটওয়ারী বলেন, আমার নতুন বাড়ির কাজ চলমান অবস্থায় গভীর নলকূপ বসানোর জন্য তাদেরকে চুক্তি দিয়েছি। শুক্রবার সকালে যখন আমি বিষয়টি জেনেছি, তখনই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিসহ রাজনীতিক নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে পুলিশকে খবর দেই।
ঠিকাদার আবু সালেহ মোল্লা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় প্রতিদিনের ন্যায় খাওয়া দাওয়া শেষ করে তাকে ডিউটিতে রেখে আমরা চলে যাই, সকালে মসজিদের এক মুসল্লির মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবরটি জানতে পারি। পরে নিহত মুস্তাকিনের লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এসময় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় আগত উৎসুক জনতার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখেন। এসময় উক্ত ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সোহাগ পাটওয়ারী ও ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। এদিকে এই আত্মহত্যা নিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
লোকমুখে শোনা যায়, নিহত মুস্তাকিনের বাড়ি বরগুনা জেলায়। এখানে তার মৃত্যু কেন হলো এবং যেহেতু টিউবওয়েল স্থাপনের কোন যন্ত্রাংশও খোয়া না গেলেও তার আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ধারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন উক্ত এলাকাবাসী।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন