প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ । ৮:৩৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ থেকে খাজুরিয়া ১৭ কিলোমিটার সড়ক এখন যাত্রীদের দুঃস্বপ্ন

রাফিউ হাসান হামজা

কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত রুট। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও শত শত যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু হাজীগঞ্জ থেকে খাজুরিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়ক এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সড়ক ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি স্থানে ছোট-বড় গর্ত, ভাঙা বিটুমিন, উঁচু-নিচু টিলা আর ছড়িয়ে থাকা ইট-পাথরের কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় অযোগ্য হয়ে গেছে। কোথাও গর্তের দৈর্ঘ্য ২ থেকে ৪ ফুট, আবার গভীরতা ৩ থেকে ৬ ইঞ্চি। বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে ছোট ছোট পুকুরের মতো হয়ে যায়। ফলে গাড়ি চলতে গিয়ে ধাক্কা খায়, ভারসাম্য হারায়, আবার হঠাৎ ব্রেক করলে স্লিপ করে ঘটে দুর্ঘটনা।

সিএনজি চালক আলমগীরের ক্ষোভ “গর্তে পড়লে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অনেক সময় উল্টেও যায়। প্রতিদিন ভয় নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।”

একই অভিজ্ঞতা বাসচালক সজলেরও “ঢাকা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের অনেক গাড়ি এই রুট ব্যবহার করে। যানবাহনের চাপ বেশি, তার মধ্যে রাস্তার বেহাল দশা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।”

চাঁদপুরের কৃষিপণ্য, মাছ ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল এ সড়ক হয়ে কুমিল্লা ও ঢাকায় যায়। আগে যেখানে কুমিল্লা পৌঁছাতে এক ঘণ্টা লাগতো, এখন লাগছে প্রায় দ্বিগুণ। ট্রাক ও বাস চালকরা জানান, প্রতি যাত্রায় জ্বালানি ও খরচ প্রায় এক হাজার টাকা বেড়ে গেছে। এতে পরিবহন ভাড়া বাড়ছে, আর শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক ও ভোক্তারা।

প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রী এই রুট ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারেন না। অ্যাম্বুলেন্স গর্তে ধাক্কা খেয়ে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় এমন অভিযোগও রয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক এত খারাপ অবস্থায় পড়ে থাকা দেশের পরিবহন ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া যত রাস্তা বানানো হোক, কিছুদিন পরই অচল হয়ে পড়ে।”

চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন বলেন, “হাজীগঞ্জ-খাজুরিয়া সড়কে এখন টেকসই মেরামত না হলে পুরো মহাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।”

প্রতিবছর সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও হাজীগঞ্জ থেকে খাজুরিয়া পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক দেখায় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ঘাটতি। অস্থায়ী মেরামত, নিম্নমানের কাজ আর তদারকির অভাব মিলেই এই দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহা. আলিউল হোসেনের ব্যবহৃত নাম্বারে একাধিকবার কল করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জনগণের প্রত্যাশা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এ আঞ্চলিক মহাসড়ককে সচল ও নিরাপদ করা হোক। নইলে দুর্ঘটনা, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন