শাহরাস্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালিয়া পাড়া জিকে উবিঃ মাঠ থেকে বিশাল শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে মেহের কালীবাড়ি মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
স্মরণকালের ঐতিহাসিক এ শোভাযাত্রার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। দুপুরের পর থেকেই সমগ্র উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী কালিয়াপাড়া জিকে উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হয়। শহরজুড়ে জনস্রোত ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
র্যালিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, জাতীয় পতাকা, ধানের শীষের প্রতীক, দলীয় ফ্ল্যাগ ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশ নেন।
ওই শোভাযাত্রা ও জনসভার প্রধান অতিথি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং চাঁদপুর-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন,জনগণই বিএনপির মূল শক্তি।

শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ বিএনপির অন্যতম ঘাঁটি, যেখানে নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর নির্যাতন, গুম, খুন ও মামলার ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে গণতন্ত্রের আন্দোলনে দৃঢ়ভাবে লড়ে যাচ্ছেন। তাদের এই সাহসই আমাদের আন্দোলনের শক্তি।”তিনি আরও বলেন,“আমাকে যদি দল আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেয়, তবে আমি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করব। রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতা ভোগের উপায় নয়; বরং মানুষের কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম।”
তিনি হক প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন,“আমি আজ প্রতিজ্ঞা করছি, শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জের মানুষের সুখ-দুঃখে সর্বদা পাশে থাকব। জনগণই বিএনপির শক্তি, এবং জনগণের ঐক্যই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবে।”তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন,“স্বৈরাচার পতনের পরেও কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ভোল পাল্টে বিএনপির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাদের বিষয়ে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। দীর্ঘ ১৭ বছরে বাকস্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। আজকের এই মহাসমাবেশই গণমানুষের পক্ষ থেকে তার জবাব।”

ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আবু ইউসুফ পাটোয়ারী রূপন, বিশিষ্ট শিল্পপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম পাটোয়ারী লিটন, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ইকবাল, সাবেক পৌর সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, সাবেক পৌর সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গণি, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হাসান বাবলু, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক গাজী ফিরোজ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক সোলেমান রায়হান, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ আলম, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন দুলাল, পৌর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আঃ খালেক, ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবি এম পলাশ ও সদস্য সচিব আজগর হোসেন মিয়াজি,বিএনপি নেতা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা একরামুল হক রহিম প্রমুখ।
এছাড়া উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের হাজারো নেতাকর্মী এতে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশ শেষে দলের প্রধান সহ শীর্ষ পর্যায়ের প্রয়াত শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মোঃ মাসুদ রানা/রাফিউ হাসান হামজা