পৌরসভার “সুয়াপাড়া মসজিদ উল মতিন”-এর উপদেষ্টা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা জান্নাতুল মাওয়া অসহায়দের চিকিৎসা সহায়তা বাবদ অনুদান প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমে যুক্ত হন।
শাহরাস্তি প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে মোট পাঁচজন সুবিধাভোগীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়।
তারা হলেন পাথৈর গ্রামের হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু নুসাইবা (৫),মৃত হাবিবুল্লাহর পুত্র ও টামটা ইউনিয়নের অসুস্থ মো. শাখাওয়াত হোসেন (৩৫),পৌরসভার রিয়াদ হোসেনের স্ত্রী মিলি আক্তার (১৯) একসাথে জন্ম নেওয়া তিন নবজাতকের দুধ কেনার জন্য, পৌর শহরের শাহীন আক্তার (৫৫), অসুস্থতার চিকিৎসায়,মেহের দক্ষিণের প্রবীণ খোরশেদ (৭৫), চিকিৎসা সহায়তায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা জান্নাতুল মাওয়া বলেন “মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি যে অঙ্গীকার করেছিলাম তা হলো মানুষকে ভালোবাসা ও সেবা করা। আজও সেই আদর্শে আমি সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকি মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।”
তিনি আবেগঘন কণ্ঠে আরো বলেন “শাহরাস্তির তিন নারী মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে আমি এখনো বেঁচে আছি। ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পিতা ও স্বামীর অনুপ্রেরণায় যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নেই। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আ. মালেকের ক্যাম্পে রান্না ও খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করি। পরে মেজর হায়দারের নির্দেশে ডা. বদরুন নাহারের অধীনে সেবিকা হিসেবে যোগ দিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিয়োজিত থাকি।”
যুদ্ধশেষে জান্নাতুল মাওয়া শিক্ষকতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ২২ বছর কাস্টমস ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তিনি দেশে এসে মুক্তিযুদ্ধের দলিলাদি সংগ্রহের পাশাপাশি মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
সুয়াপাড়া মসজিদ উল মতিন ছাড়াও তিনি বশির উল্লাহ মেডিকেল হাসপাতাল ও শাহরাস্তি জোবেদা মতিন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর উপদেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ মোঃ মাসুদ রানা ও মাহবুব হাসান বাবলু মুক্তিযোদ্ধা জান্নাতুল মাওয়ার উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন “তিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধেই নয়, স্বাধীনতার পরও সমাজের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন প্রজন্ম তার জীবন ও কর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হবে।”

নিজস্ব প্রতিনিধি