চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষি জমির মাটি লুটে নিচ্ছে একটি মহল। প্রশাসনের বাধায় দিনের পরিবর্তে রাতের আধারে চলছে অবৈধ ড্রেজারে ফসলী জমি খনন, পাচার করছে মাটি, ধ্বংস করছে ফসলের মাঠ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কেয়ার সড়কের দক্ষিণ দিকে ভড়ঙ্গারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে পশ্চিম লোধেরগাঁও গ্রামের কৃষি নির্ভর বিল থেকে গত ১৫ থেকে ২০ দিন যাবত অবৈধ মিনি ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি বিক্রি করছেন পার্শ্ববর্তী হাওলাদার বাড়ির মোঃ সাঈদি। এতে আশপাশের কৃষি জমিগুলো এখন হুমকির মুখে। যদিও বিলে বর্ষার পানি থাকায় এখন কোন ক্ষতির পরিমাণ বুঝা না গেলেও পানি কমে গেলে তা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে বলে ধারণা করছেন জমির মালিকরা। তবে সাঈদির মালিকানাধীন কৃষি জমির মাটি কেটে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সাব স্টেশনের পাশে দুইটি জমি ভরাট করা হয়েছে।
এমনকি উক্ত জমি থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি এনে আরো কয়েকটা জমিও ভরাট করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা আরো বলেন, সাঈদি হাওলাদারের কৃষি জমির আশপাশের জমির মালিকগভয়ে কিছু বলতে পারেন নি।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা। গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদকর্মীরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবগত করেন। পরে এদিন বিকেলে এসিল্যান্ড এর নির্দেশে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে ড্রেজারের কয়েকটি পাইপ খুলে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পর তারা সেই পাইপগুলো লাগিয়ে আবারো ড্রেজার চালু করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে জানালে আবারো সোহাগ ও শরীফ নামে ভূমি অফিসের লোক এসে তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে কয়েকটি পাইপ বিনষ্ট করে চলে যান।
কিন্তু এতেও টনক নড়েনি কারো। ড্রেজার মালিক মমিন ও সহযোগিতাকারী ফরিদের অদৃশ্য শক্তিতে এদিন রাতে পূণরায় ড্রেজার মেশিন চালু করে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। এরপর গত শুক্র, শনি ও রবিবার প্রশাসনের বাধায় দিনে মেশিন বন্ধ রেখে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত অবাদে মাটি কেটে নিয়েছেন। এই তিনদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন জামিউল হিকমা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্তকে অবগত করলে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। কিন্তু প্রশাসনের জোড়ালো ভূমিকা না থাকায় ড্রেজার মেশিনটি ঐ জমিতে রেখে অবাদে বালি উত্তোলন করে তাদের স্বার্থ আদায় করে নিয়ে চলছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন জামিউল হিকমা বলেন, ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তবে খুব সহসাই বিষয়টি দৃশ্যমান হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি