চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আগুনে দগ্ধ হয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ। তার নাম সাহানাজ বেগম (৪০)। তিনি দুই সন্তানের জননী। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ নাছিমা বেগম নামের এক নারীকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের উপাধিক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সেদিন রাতেই নিজ বাড়ির পাশে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় আগুনে পুড়ে যান সাহানাজ বেগম। প্রতিবেশীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
সাহানাজের স্বামী মো. আমিন মিয়া জানান, ঘটনার সময় রান্নাঘরে আগুন লাগে। এ সময় তাঁদের ১২ বছরের মেয়ে সুমাইয়ার চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা দৌড়ে আসেন। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর সুমাইয়া তার মাকে খুঁজতে থাকেন। পরে রান্নাঘরের পেছনে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় আগুনে ঝলসানো সাহানাজকে পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, ইতিপূর্বে আমার স্ত্রী ও আমার মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যের টয়লেটের বদনায় মরিচের গুঁড়ো এবং আমার বসত ঘরে তাদেরকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাহানাজ বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী হাফেজ ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী নাছিমা বেগমের সুদের টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিস হয়েছে এবং থানায় ও আদালতে মামলাও হয়েছে। এর আগেও সাহানাজ ও তাঁর পরিবারকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক এই হামলার নেপথ্যে নাছিমা বেগমই জড়িত।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, এ ঘটনায় সাহানাজ বেগমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা নাছিমা বেগম নামে একজনকে আটক করেছি এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ কাজ করছে।

এস. এম ইকবাল