শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসার ২০২৫ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (বিএম) ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর কলেজ পর্যায়ে গড় পাসের হার ৪২.১৫ শতাংশ, এইচএসসি (বিএম) শাখায় ৮৯.১৩ শতাংশ এবং আলিম শাখায় ৮০.০৮ শতাংশ।
উপজেলার ছয়টি কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১,০৯৬ জন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয় ৪৬২ জন এবং অকৃতকার্য হয় ৬৩৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন শিক্ষার্থী।
উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনু:পাত হারে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এ কলেজ থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৩০ জন কৃতকার্য হয়েছে—পাসের হার ৫৫.৫৬%। এ প্রতিষ্ঠানের ২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মেহের ডিগ্রি কলেজ সর্বাধিক পাসের হার অর্জন করেছে। এ কলেজের ৩৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯১ জন কৃতকার্য হয়েছে—পাসের হার ৫৫.২০% জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।
সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজে ২৯৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২০ জন পাস করে, ১৭৯ জন অকৃতকার্য হয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন, পাসের হার ৪০.১০%।খিলাবাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন পাস করেছে—পাসের হার ৩৮.৮৯%।করফুলেন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজে ১৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে—পাসের হার ৩৬.২০%।
চিতোষী ডিগ্রি কলেজে ১৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ জন পাস করেছে—পাসের হার ১৮.৭৫%।
অন্যদিকে, এইচএসসি (বিএম) শাখায় একমাত্র প্রতিষ্ঠান চিতোষী ডিগ্রি কলেজ। এ কলেজের ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন কৃতকার্য হয়েছে—পাসের হার ৮৯.১৩%।
মাদ্রাসা পর্যায়ে আলিম পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৪৬ জন, এর মধ্যে ১৯৭ জন কৃতকার্য এবং ৪৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ৮০.০৮%।
সামগ্রিকভাবে শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন আলিম ও ফাজিল মাদ্রাসা ভালো ফলাফল করেছে। এর মধ্যে চিতোষী সুলতানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা শতভাগ পাস করে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
সবচেয়ে কম ফলাফল করেছে শাহরাস্তি চিশতিয়া আলিম মাদ্রাসা, যেখানে ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জন পাস করেছে—পাসের হার ৫৭.১৪%।অন্যান্য মাদ্রাসার ফলাফল হলো নুনিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ৮৮.৪৬%,রাজাপুরা আল-আমিন ফাজিল মাদ্রাসা ৮০%,পরানপুর ফাজিল মাদ্রাসা ৮০%,গাউছিয়া হাসেমিয়া আলী সুফা মাদ্রাসা ৭৬.৭৪%,আহম্মদনগর আঃ আজিজ আলিম মাদ্রাসা ৮৬.৯৬%, ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসা ৬২.৯৬%,
এবং শাহরাস্তি মডেল মহিলা আলিম মাদ্রাসা ৭২.২২% পাসের হার অর্জন করেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলী আশ্রাফ খান বলেন,এবার মানসম্মত পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফলাফলে সন্তোষজনক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর মানোন্নয়নে ধারাবাহিক তদারকি অব্যাহত থাকবে, যাতে আগামী বছর আরও ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়।
এদিকে ভালো ফলাফল প্রসঙ্গে মেহের ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, কুমিল্লা বোডের ফলাফল অনুপাতে আমি এ ফলাফলে সন্তুষ্ট। তবে আরো ভালো করতে হবে। একেই অভিমত ব্যক্ত করে চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কালাম বলেন, আমার কলেজটি একেবারেই নতুন। তারপরও আল্লাহর রহমতে উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

মোঃ মাসুদ রানা