চাঁদপুর সদরের বালিয়া ইউনিয়নে ‘আওয়ামী দোসর’ ট্যাগ দিয়ে মসজিদের ইমামের বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর এবং লুটপাট করে দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
(২ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডস্থ বালিয়া বাজারের স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মোস্তফা মীরের বসত বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দখল ও লুটপাটে বাধা দেয়ায় তাদের পরিবারের নারী সদস্যদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতরা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ নয়ন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মসজিদের ইমাম মাওলানা মোস্তফা মীরের মেয়ে, আহত মাকসুদা আক্তার (৩৪) বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, বালিয়া বাজার মসজিদের ইমাম ও বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা মোস্তফা মীর প্রায় ৪০ বছর ধরে তাদের ক্রয় করা (৪৫৬৫নং সাফকাবলা দলিল মূলে) ২২৫০ একর ভূমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। যার মৌজা নং১১৫, উত্তর বালিয়া, বি,এস নং ৯৯৩। এর মধ্যে ৬২৫৮ দাগে (ডোবা) ০৬৫০ একর এবং ৬২৪৯ দাগে (বাড়ি) ১৬ একর (সর্বমোট ২২৫০ একর)।
এদিকে একই এলাকার মৃত আঃ মতিন কাজী ছেলে হাবীব কাজী (৪০) ও মৃত আব্দুর রাজ্জাক কাজীর ছেলে বারেক কাজী ওই সম্পত্তির একাংশ জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (যাহার নং- ৬১৪/২০২৫)। এরপর আদালত উক্ত ভূমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মান কাজে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর থেকে অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন অভিযুক্ত হাবিব কাজীর নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের সংঘবন্ধ একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত ভাবে তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ঘরের টিন, পানির ট্যাংকি, বসতঘরের ভিতরে লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসময় মোস্তফা মীরের মেয়ে মাকসুদা আক্তার, রোকসানা আক্তার এবং মনিরা আক্তার বাধা দিতে তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মাওলানা মোস্তফা মীরের ছেলে হাবিবুর রহমান মীর বলেন, আমার বাবা বহুদিন ধরে স্থানীয় মসজিদে ইমামতি করছেন। একজন দ্বীনদার আলেম হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আমার বাবাকে অনেক সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন। আমি ঢাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষকতা করি। ৫ আগস্টের পর স্থানীয় হাবীব কাজী আমার বাবাকে ‘আওয়ামী দোসর’ ট্যাগ দিয়ে নানাভাবে আমাদের বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করছে। তারা আমাদের বসতঘর ভেঙে দিয়ে মাঝখানে দেয়াল নির্মাণ করেছে।
আমার বাবা একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। বাড়িতে শুধু আমার মা, স্ত্রী আর বোনরা থাকে। আমাদের পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে আমি চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেবের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করেছে, আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেব।

নিজস্ব প্রতিনিধি